Sylhet Today 24 PRINT

অবৈধভাবে বালুমহাল চালু ও পাথর উত্তোলন করা যাবে না : আরিফুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, অবৈধভাবে বালুমহাল চালু এবং পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকলে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের বলেছিলাম, আমাকে ১২ তারিখ পর্যন্ত সময় দিন; ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের জন্য কাজ শুরু করব। নির্বাচনের সময় দেওয়া আমার সব প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।’

গোয়াইনঘাটের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী মার্চ মাস থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হবে। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম দ্রুত চালু করা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া খাল খনন, উপজেলা পরিষদের পুকুরের চারপাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং শহরের আদলে হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার কথাও জানান তিনি।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে সিলেটের জৈন্তাপুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সিলেটের খালগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খননের আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শনিবার সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরীকে এ আহ্বান জানান।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের চাষাবাদের ক্ষেত্রে পানির ব্যাপক সংকট দেখা দেয়, ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য খাল খনন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হলে সুবিধামতো পানি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, সিলেট প্রাকৃতিকভাবে উর্বর ও পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকা। জৈন্তাপুরের শাপলা বিল দেখতে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক আসেন। ওই বিলে বাঁধ সংস্কার করা গেলে সারা বছর পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং পর্যটন কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হবে। এছাড়া শাপলা বিলের নিকটে একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

পানি সম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, সিলেট দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। এ অঞ্চলের সৌন্দর্যবর্ধন ও পারিপার্শ্বিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে সিলেট তথা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে। জনগণের জন্য যেসব কাজ অগ্রাধিকারভিত্তিতে করা প্রয়োজন, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় খাল খনন কর্মসূচিকে আন্দোলনের রূপ দিয়েছিলেন। এর ফলে কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছিল। খাল খনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অচিরেই বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এবং বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটের বিভিন্ন স্থানে খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.