সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (নীট) একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠান । এ প্রতিষ্ঠানের প্রতারনার শিকার হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। প্রতারণার নীট আত্মসাত করে চলেছে কোটি কোটি টাকা।
রোববার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিট'র বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা। নিজেদের নীট'র প্রতারনার শিকার বলে দাবি করে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্থ ফেরত ক্ষতিপূরণ প্রদান ও অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহরের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা জানান, সরকারী মেডিকেলে ইন্টার্নশীপ দেয়ার কথা বলে ঢাকার ৩৬/৭মীরপুর ঠিকানার প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (নীট) সারা দেশে ২৮টি শাখা খোলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে ভূয়া ডাক্তার তৈরী করছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুয়া হিসেবে ধরা পড়ছে শিক্ষার্থীরা। কোন মেডিকেলই তাদেরকে ইন্টার্নি হিসেবে গ্রহণ করছে না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নীট ডিপ্লোমা ইন প্যারামেডিক, ডিপ্লোমা ইন মেডিসিন, ডিপ্লোমা ইন প্যাথলজি, ডিপ্লোমা ইনডেন্টাল ও ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্সে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করছে। কিন্তু এসব কোর্সের কোনটারই সরকারী ও কারিগরি অনুমোদন নেই নীট নামের এ প্রতিষ্ঠানের। সম্পূর্ন ভূয়া রেজিষ্টেশন ও সার্টিফিকেট বিতরন করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করলেও প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করে চলেছে।
২০০৮ সালে নগরীর জিন্দাবাজারের এলিগেন্ট শপিং মলের ৬ষ্ট তলায় সিলেটে প্রথম শাখা খোলে নীট। বর্তমানে প্রতিষ্টানটির শাখা জিন্দাবাজারের পুরান লেনের রফিক টাওয়ারের তৃতীয় তলায় রয়েছে।
২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ২০১ জন শিক্ষার্থীর সাথে প্রতারণা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অবীযোগ করা হয়, বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক দিয়ে ক্লাস করানোর কথা বললেও বিভিন্ন সময় ক্লাস করানো হয় বিভিন্নজন দিয়ে। প্রতিষ্টানের কোন শিক্ষকের স্থায়ী নিয়োগ নেই। প্রতিষ্ঠানটি কোন কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের তালিকাভুক্ত নয়। নেই স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ও সেমিষ্টার পদ্ধতি। কোন বোর্ডের রেজিষ্ট্রেশন ও রোলবিহীন সার্টিফিকেট প্রতিষ্টান কর্তৃক তৈরী করেই দেয়া হয়ে থাকে। কর্মক্ষেত্রে এ সার্টিফিকেট সর্বত্র প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয় শিক্ষার্থীরা গতবছরের ১ নভেম্বর ইন্টার্ন ও সার্টিফিকেট চাইলে গড়িমসি শুরু করে প্রতিষ্ঠান। শুরু হয় আন্দেলন। আন্দেলনের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কর্মচারী সাজিয়ে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় চাঁদাবাজি মামলা করা হয়। অথচ পুুলিশ প্রতিষ্ঠানের রেজিষ্টেশন এমনকি প্রতিষ্ঠঅন পরিচালকের পরিচয় পত্রটি পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সার্টিফিকেটের সরকারী রেজিষ্টেশন, ইন্টারশীপ, প্রতিষ্টানের রিজাল্ট ওয়েবসাইটে শো’, সবার কাছ থেকে সমান টাকা আদায়, নীট-এ ল্যাবরটারী, স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ, কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীন পরীক্ষা, সার্টিফিকেটে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের রোল প্রভৃতি দাবিতে শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলন শুরু করে, তখনই বেরিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানের প্রতারনার চিত্র।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রতারিত শিক্ষার্থী হুমায়ুন, মাহফুজ, ইকবাল, শাহীন, শিরিন, তৌকির, আবুল, হারিছ, কান্তা,সুহানা, পারভীন, সায়রা, রাহাদ ও রুজি প্রমূখ।