Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে ঈদবাজারে মধ্যপ্রচ্যের যুদ্ধের প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৭ মার্চ, ২০২৬

সিলেটে শেষ সময়ে এসে জমে ওঠেছে ঈদ বাজার। নগরীর বিভিন্ন মাকের্ট-বিপণিবিতানে চলছে ঈদের কেনাকাটার ধুম। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতারা ভিড় করছেন দোকানগুলোতে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিলেটের বেশিরভাগ লোকজন প্রবাসী, যাদের অনেকেই রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে; সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেননি। তাই এ বছর কেনাকাটা একটু কমেছে।

এদিকে, ঈদের কেনাকাটার কারণে যানজট লেগেই আছে পুরো নগরীতে। যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে।

সোমবার বিকালে-রাতে নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, লামাবাজার, বন্দরবাজার, জেলরোড, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

এসব এলাকায় দেখা যায়, ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে নানা রঙের আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে মার্কেট ও শপিংমল গুলো। বেশিরভাগ ক্রেতাই পরিবার নিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আগে পরিবারের ছোট সদস্যর জন্য পোশাক দেখছেন, দরদাম করছেন।

কিশোর-তরুণদের কেউ দেখছেন জুতা-কেউবা আবার পছন্দের কাপড়টি ট্রায়াল দিয়ে দেখছেন, ভালো না লাগলে আবার নতুন করে খুঁজতে শুরু করছেন।

এর মধ্যে শহরের জিন্দাবাজার-নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকায় নামিদামি ব্র্যান্ড ও আধুনিক শপিংমলগুলোতে উচ্চবিত্তের ক্রেতাদের ভিড় বেশি। আর নগরীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের বেশি ভিড় রয়েছে বন্দরবাজার এলাকার বিভিন্ন মার্কেটে।

এই এলাকার হাসান মার্কেট ও হর্কাস মার্কেটে রয়েছে উপচে পড়া ভিড়। সবাই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক, জুতা ও প্রসাধনী কেনাকাটা করছেন।

জিন্দাবাজারে পরিবারের সঙ্গে আসা ১২ বছরের আবিদা হক বলল, “ঈদের দিনে পড়ার জন্য নতুন ড্রেস কিনেছি। এখন জুতা কিনতে এসেছি। তারপর সাজার জিনিস কিনব। আমার সঙ্গে বাসার সবাই রয়েছেন।

“দোকানে মানুষের ভিড় থাকায় দেরি হচ্ছে কেনাকাটা করতে। আমার কেটাকাটা শেষে আব্বু বাসার সবার জন্য পোশাক কিনবেন। ঈদের বাজারে এসে ভালো লাগছে।’’

বন্দরবাজার এলাকায় হাসান মার্কেটের কর্মচারি মাসুক আহমদ বলেন, “সিলেটে ১৫ রমজানের পর থেকেই ঈদের বাজার শুরু হয়। এবার মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি ও বাচ্চাদের পোশাকের চাহিদা বেশি।

তিনি বলেন, এখন ক্রেতার চাপ অনেক বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। আর আমাদের মার্কেটের আশপাশে তো সবসময়ই জ্যাম লেগেই আছে।’

দাম নিয়ে অভিযোগ ক্রেতাদের

নয়াসড়ক এলাকায় অভিজাত বিপণিবিতানে আসা নগরীর কাজীটুলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, “গত বছর যে বাজেটে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করেছি, এবার সেই বাজেটে হবে না। কারণ মার্কেটে এসে দেখি সব কাপড়ের দাম বাড়ানো। তবে কি আর করা, ঈদ বলে কথা, তাই বেশি দামেই সবার জন্য কাপড় কিনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এখান থেকে কাপড় কিনে জিন্দাবাজার গিয়ে জুতা কিনব সবার জন্য। এজন্য স্ত্রী, ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। দ্রুত কেনাকাটা শেষ করে বাসাতে ফিরতে চাই, কারণ বাসায় যেতে কয়েকটি পয়েন্টে যাটজট পড়তে হবে, আসার সময় যানজটে পড়েছিলাম।”

পোশাকের দাম নিয়ে অভিযোগ করলেন হাসান মার্কেটে কাপড় কিনতে আসা সিলেটের বালাগঞ্জের বাসিন্দা ইকরাম হোসেনও।

তিনি বলেন, “গত বছরই এই মার্কেট থেকে কাপড় কিনেছি পরিবারের সবার জন্য। এবারও এসেছি, কয়েকটি দোকানে ঘুরে কাপড়ের দাম বেশি মনে হচ্ছে। তাই এখনও কাপড় কিনিনি, দরদাম করতেছি। যে দোকানে দাম ভালো মনে হবে, সেখান থেকে কাপড় কিনে ইফতার করে বাড়ি ফিরব।”

দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরাও। তারা জানান, ঈদের মৌসুমে পুরুষদের শার্ট-প্যান্ট ও পাঞ্জাবি, নারীদের দেশি-বিদেশি থ্রি-পিস, ফেব্রিক্স, গাউন ও বিভিন্ন ভাইরাল নামে আসা ড্রেস বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে বছরের চেয়ে এ বছর কাপড়ের দাম একটু বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনী ও জুতার দাম।

গত বছরের তুলনায় জুতার দাম গড়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। প্রসাধনীর দামও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

যানজটে ভোগান্তি

ঈদের কেনাকাটার কারণে অতিরিক্ত মানুষের চাপে নগরীতে বেড়েছে যানজট। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে জটলায় আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের। এতে ভোগান্তি বেড়েছে নগরবাসীর।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.