Sylhet Today 24 PRINT

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আ.লীগ: চলিতেছে সার্কাস!

অহী আলম রেজা |  ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে এবার মাথাচাড়া দিয়েছে আওয়ামীলীগের কোন্দল। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালামের মধ্যে এতদিন স্নায়ু যুদ্ধ চললেও এবার প্রকাশ্য দ্বন্ধে রূপ লাভ করেছে। গ্রামে গ্রামে তৈরি হচ্ছে আলাদা বলয়। পৃথক সভা সমাবেশ করছেন উভয় পক্ষ। যে কোন সময় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে পুলিশ। কর্মীরা বলছেন-কিছুদিন ধরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আওয়ামীলীগে সার্কাস চলছে। দলের পক্ষে কাজ না কওে বেশিরভাগই ধান্ধায় আছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে- দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রী ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে মনোমালিন্য চলে আসছে। বরাদ্দ বন্ঠনকে কেন্দ্র করে এ মনোমালিন্যের সূত্রপাত। এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দুইটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান এমএ মান্নান। মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি নিজস্ব লোক দিয়ে বরাদ্দ বন্ঠনের ব্যবস্থা করেন। এক সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসব বরাদ্দ বন্ঠন করলেও মন্ত্রী নিজের লোকদের দিয়ে বন্ঠন করানোতে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এছাড়া গত নির্বাচনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ তনয় আজিজুস সামাদের পক্ষে যারা কাজ করেছেন তাদের কাছে টানায় ক্ষিপ্ত হন আবুল কালাম।

সর্বশেষ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন নিয়ে বর্তমান সভাপতি মতিউর রহমান ও মন্ত্রী এমএ মান্নানের মধ্যে দ্বন্ধ দেখা দেয়। এক পক্ষ অপর পক্ষকে প্রকাশ্য কটূক্তি করতেও ছাড়েননি।

এসব কটূক্তির প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী সুনামগঞ্জ-৫ ও ১ আসনের সংসদ সদস্য দ্বয়কে নিয়ে বলয় গড়লেও পদে থাকতে অনড় অবস্থান গ্রহণ করেন বর্তমান সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট। মতিউর-মুকুট পক্ষে অবস্থান নেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কালাম বলয় ও মন্ত্রী বলয়ের লোকজন শক্তি বাড়াতে কার্যক্রম শুরু করেন। নিজস্ব লোক দিয়ে নির্বাচন করাতে গতকাল রোববার উভয় পক্ষ পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে সভা ডাকেন। দু’পক্ষই সকাল থেকে অবস্থান নেন। টানটান উত্তেজনার মধ্যে পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে চলে যেতে বলে। পরে তারা আজ সোমবার আবারো সভা করার ঘোষণা দেন।

এ নিয়ে অস্বস্তিতে পুলিশ আছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল আমীন।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা নূর মিয়া বলেন- আমরা আমাদের মন্ত্রীর নির্দেশেই দল চালাই। এখানে দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির ছলচাতুরী আমরা সহ্য করবোনা। তিনি বলেন পূর্ব পাগলায় যাকে নৌকা প্রতীক দেয়ার পায়তারা চালানো হচ্ছে তিনি বিএনপির লোক। আমরা এটা হতে দেবনা। তার বিরুদ্ধে অনৈসলামিক কার্যকলাপসহ নারী কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর অভিযোগ আছে।

মন্ত্রীর একান্ত সহকারী আবুল হাসনাত বলেন- উপজেলা চেয়ারম্যানের দক্ষিণ সুনামগঞ্জে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। তিনি কৌশলে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আসাদুর রহমান বলেন- আমরা মন্ত্রীর নির্দেশে সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি সভা করতে চেয়েছিলাম। চেয়ারম্যান রফিক খানের নেতৃত্বে সমাবেশ বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা আবুল কালাম বলেন- আধিপত্য বিস্তারের কোন অভিলাষ আমার নেই, আমরা গ্রামে গঞ্জে পায়ে হেঁটে দলকে সংগঠিত করছি। এখন দলীয় সভাতে বাধা দেয়া সত্যিই দুঃখজনক।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.