এস আলম সুমন, কুলাউড়া | ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
‘কতো জুয়ান মানুষ বয়স্ক ভাতা পায়, খালি মুই (শুধু আমি) পাই না। আর কত বুড়া অইলে (বৃদ্ধ হলে) বয়স্ক ভাতা পাইমু? মুইতো (আমি) গরিব মানুষ, মোর কষ্টর কথা কেউ হুনইননা (শুনেনা), বুঝতো চায় না।’
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের পূর্ব রাজনগর গ্রামের বয়সের ভারে ন্যুব্জ শতবর্ষী বৃদ্ধ আরমান আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ কথাগুলো বলেন।
১০৫ বছর বয়স হলেও আরমান আলীর ভাগ্যে এখনও জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড। ইউপি সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিয়েও কোন কাজ হয়নি।
সরেজমিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ ঘরে বিছানায় শুয়ে আছেন আরমান আলী। চলাফেরাতো দূরের কথা ঠিকমত বসতেও পারেন না। ছেলে, নাতি-নাতনীরা তাকে মুখে তুলে খাওয়ান। চোখেও ঠিকমত দেখতে পারেননা, চিকিৎসাও করাতে পারেননা টাকার অভাবে। তাঁর দিন কাটছে অনাহারে অর্ধাহারে।
জাতীয় পরিচয়পত্রে আরমান আলীর জন্ম তারিখ ৭ এপ্রিল ১৯০৯ ইংরেজি। ৫ পুত্র ও ৩ কন্যাসন্তানের জনক তিনি। অনেক আগেই তাঁর স্ত্রী জামিলা বিবি মারা যান। ছেলেরা বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী সন্তানসহ আলাদা ঘরে থাকেন। মেয়েরা তাদের স্বামীর বাড়িতে থাকেন।
তাঁর বড় ছেলে রমজান আলী ও মেজো ছেলে আকবর আলী জানান, আমাদের নিজের কোন জায়গা-জমি না থাকায় পরের জায়গায় দিন মজুরে কাজ করে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করি। সারাদিন কাজ করে যা পাই তা দিয়ে পরিবারের খরচ যোগানো দায়। বাবার চিকিৎসা খরচ বহন করা অনেকটাই কষ্টকর।
তারা আরও বলেন, বয়স্ক ভাতার জন্য চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে অনেকবার গিয়েছি তাতে কোন কাজ হয়নি। এই ভাতা পেলে উনার চিকিৎসার খরচটা চালানো যেত।
আরমান আলী অভিযোগ করেন, মেম্বারদের কাছে বয়স্ক ভাতার জন্য তিনি বহুবার গিয়েছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউ তাঁকে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করে দেননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ আলী বলেন, আমরা এ বছর নতুন তালিকা হলে তাঁর নাম দেয়ার চেষ্টা করবো।
পৃথিমপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, আমি শীঘ্রই উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের সাথে কথা বলে আরমান আলীর বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করে দিব।
কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কল্লোল শাহ মোবাইলে বলেন, আরমান আলীর ব্যাপারে দ্রুতই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ করে তাঁর নাম বয়স্ক ভাতার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।