শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোরের সূর্যোদয় প্রার্থনা দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজনে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডলী থেকে আগত ৫ শতাধিক খ্রিষ্টভক্তের অংশগ্রহণে ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে শ্রীমঙ্গল শ্রমিক সাধু যোসেফ ধর্মপল্লী প্রাঙ্গণে আন্ত:মান্ডলিক সূর্যোদয় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ইস্টার সানডের আনুষ্ঠানিকতা। সকাল সাড়ে ৫ টায় শ্রীমঙ্গল খ্রিস্টীয় আন্তঃমণ্ডলীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় সার্বজনীন প্রাতঃকালীন বিশেষ উপাসনা।
নির্মল ও শান্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ উপাসনায় বিভিন্ন মণ্ডলীর খ্রিষ্টভক্তরা সমবেত হয়ে যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থান স্মরণ করেন। প্রার্থনায় অংশ নিতে ভোর থেকেই ধর্মপল্লী প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে।
খ্রিষ্ট ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু খ্রিস্টের মৃত্যুর তৃতীয় দিনে তাঁর পুনরুত্থান ঘটে। এই ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ইস্টার সানডে উদযাপন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় দিনটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করে থাকে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন গির্জা বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয় এবং দিনজুড়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থনায় দেশ-জাতির শান্তি, কল্যাণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা করা হয়।
সকাল ১১ টায় শ্রীমঙ্গল শ্রমিক সাধু যোসেফ ধর্মপল্লীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ প্রার্থনা সভা পরিচালনা করেন সিলেট কাথলিক ধর্মপ্রদেশের বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ। তাঁর পরিচালনায় ভক্তরা প্রার্থনায় অংশ নিয়ে বিশ্বশান্তি ও মানবজাতির মঙ্গল কামনা করেন।
প্রার্থনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল সাধু যোসেফ ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার শ্যামল গোমেজ। অনুষ্ঠানে খ্রিস্টীয় গান ও ধর্মীয় বাণীর মাধ্যমে পুনরুত্থিত যিশুর মহিমা তুলে ধরা হয়।
প্রার্থনা সভায় ধর্মপল্লীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং ৫ শতাধিক পুণ্যার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
আলিয়াছড়া পুঞ্জি থেকে আগত বিপাশা খংলা বলেন, “যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের এই দিনে আমরা প্রার্থনা করেছি—বাংলাদেশ ভালো থাকুক, দেশের মানুষ সুস্থ থাকুক। “ইস্টার সানডে উপলক্ষে সমবেত প্রার্থনায় অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা সবার মঙ্গল কামনা করেছি।
প্রার্থনা সভায় বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ বলেন, “ইস্টার সানডে সত্য ও ন্যায়ের জয়ের প্রতীক। তিনি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রার্থনা শেষে ভক্তরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।