সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
লুৎফুর-নেহার গার্লস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান শিক্ষক মকছুছুল আম্বিয়া চৌধুরীর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সিলেটের বিয়ানীবাজারের আলীনগর ইউনিয়নস্থ বিদ্যালয়ের হল রুমে এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৌলুদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরেণ্য শিক্ষক নজরুল হক; বিয়ানীবাজার উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজর আরিফুর রহমান।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন লুৎফুর-নেহার গার্লস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বাবলু।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবিদ মোহাম্মদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফনি ভূষণ পাল, লেখক-সাংবাদিক কবির আহমদ চৌধুরী, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কাশেম, ফুলমলিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলাল আহমদ, সুরমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফখরুল ইসলাম, উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আবদুল বাছিত চৌধুরী, মারুফ আহমদ চৌধুরী, সুলেমান হোসেন খান, সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান, সহকারী শিক্ষক হোসেনে আরা খাতুন, সহকারী শিক্ষক রোমান আহমদ, সহকারী শিক্ষক শামসুল ইসলাম, চন্দগ্রাম শিশু বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আবদুল হানিফ, এম মনসুর চৌধুরী সুমন প্রমুখ।
বক্তারা বরেণ্য শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ মকছুছুল আম্বিয়া চৌধুরীর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে আলোর মশাল জ্বালিয়েছেন। তার অগণন শিক্ষার্থী আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই অঞ্চলে যে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন, এটা অনুকরণীয়।
তারা বলেন, মকছুছুল আম্বিয়া চৌধুরী এই অঞ্চলে ‘আম্বিয়া স্যার’ নামে পরিচিত ছিলেন। পূর্ব সিলেটে এই এক নামে তাকে সবাই চেনে। এটা সম্ভব হয়েছে মূলত শিক্ষার প্রতি তার কমিটমেন্ট থেকে। শিক্ষকতাকে তিনি কেবল চাকরি হিসেবে গ্রহণ করেননি বলে এমনটা সম্ভব হয়েছে।
তারা বলেন, ডিএম হাইস্কুল থেকে অবসর গ্রহণের পর আলীনগর ইউনিয়নে নারী শিক্ষার প্রসারে লুৎফুর-নেহার গার্লস স্কুলে মকছুছুল আম্বিয়া চৌধুরী যোগ দিয়ে মাত্র চার বছরে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যে জায়গায় রেখে গেছেন, এটা ধরে এগোতে হবে। তিনি প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে এই স্কুলকে নিজ হাতে গড়েছেন।
বিদায়ী বক্তৃতায় মকছুছুল আম্বিয়া চৌধুরী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে বলেন, জীবনের প্রয়োজনে তিনি প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে বিদায় নিলেও বিদ্যালয়ের যে-কোনো প্রয়োজনে তিনি আগের মতোই সবার সঙ্গে থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মকছুছুল আম্বিয়া চৌধুরীর হাতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক এবং বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মানপত্র উপহার দেওয়া হয়।