নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদের ওপর হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে সিলেট নগরের উপশহর-শিবগঞ্জ সড়কের বি ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে এই ঘটনা ঘটে।
তবে হামলার বিষয়টি চার দিন পর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পেয়েছে। সোয়েবের মাথা ও শরীরে আঘাতের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশের পর নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই ঘটনায় ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সোয়েব আহমদের উপর হামলার ঘটনায় বড়লেখা উপজেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে সাবেক চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের ওপর হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি সরব দেখা গেছে জাতীয় পার্টির নেতা আহমদ রিয়াজকে। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করেছেন। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও সোয়েবর পরিবার বলছে, কে বা কারা এবং কী কারণে তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা তারা এখনো নিশ্চিত নন।
সোয়েব আহমদের স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে উপশহর-শিবগঞ্জ সড়কের বি ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি সোয়েব আহমদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে রাত প্রায় দুইটার দিকে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে তার চিকিৎসা করানো হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে সোয়েব আহমদের ছোট ভাই বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেহ আহমদ জুয়েল বলেন, কারা এই হামলা করেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে এবং সবার দোয়ায় তিনি (সোয়েব আহমদ) এখন আশঙ্কামুক্ত এবং কিছুটা সুস্থ আছেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি প্রকাশ করতে চাননি তারা। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে পরিবার আবেগাপ্লুত। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বড়লেখা উপজেলা বিএনপির নিন্দা:
বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদের ওপর হামলার ঘটনায় দলীয়ভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বড়লেখা উপজেলা বিএনপি। বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে এই ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
সিলেটটুডের পাঠকদের জন্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু’র পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো: তিনি লিখেন, ‘‘বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সুয়েব আহমেদের ওপর প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। এ ধরনের মব কালচার বর্তমান সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কারোই কাম্য নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটি সত্য হলে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। ’’
বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের নিন্দা:
বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদের ওপর হামলার ঘটনায় দলীয়ভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বড়লেখা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। বড়লেখা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মো: ফয়ছল আহমদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে এই ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
সিলেটটুডের পাঠকদের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মো: ফয়ছল আহমদের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো: তিনি লিখেন, ‘‘সাবেক বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব সোয়েব আহমদের উপর নেক্কার জনক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ রকম দুঃখ জনক সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সকল জনগন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরাপদ বসবাসের উপযোগী হতে হবে। এক জন মানুষ নিরাপদে বসবাস করার নিশ্চয়তা প্রশাসন কে নিশ্চিত করতে হবে। এ রকম সন্রাসী হামলা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের চিন্নিত করে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এবং আমার সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই নেক্কার জনক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং জনাব সোয়েব আহমদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি ও আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনের নিকট দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। ’’