Sylhet Today 24 PRINT

বাসিয়া: ছিল নদী, হয়ে গেল খাল

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

সুরমার শাখা নদী বাসিয়া। প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সিলেটের এই নদীটি এখন দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার চাপে মৃতপ্রায়। ২ মে এই নদী খননের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তবে সরকারি কাগজপত্রে এই নদীকে এখন খাল হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী খাল হিসেবেই বাসিয়ার খনন কাজের উদ্বোধন করবেন।

বাসিয়া নদীকে খাল হিসেবে উল্লেখ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)- এর সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম। তিনি বলেন, জলজ্যান্ত একটি নদীকে 'খাল' বলার কারণ কী? বাসিয়া সুরমার শাখা নদী। এখন তারেক রহমান-এর খাল কাটা কর্মসূচি পালনের জন্য নদীকে 'খাল' বলতে হবে?

জানা যায়, এক সময় প্রমত্তা ছিল বাসিয়া নদী। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় নদীটি কোথাও কোথাও সরু নালায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে বাসিয়াকে এখন আর নদী নয়, খাল বলেই চেনেন।

এই নদীর ২৩ কিলোমিটার খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার বাসিয়া নদী পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত খনন হবে। এতে এই ৯০ হাজার কৃষক উপকার পাবে। আর শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বাড়তি ফসল উৎপাদন হবে। সিলেট সফরকালে আগামী ২ মে খনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানা যায়, সিলেটের জালালাবাদ এলাকার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে উৎপত্তি হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ এলাকায় কুশিয়ারা নদীতে মিলিত হওয়া বাসিয়ার উৎস ও নিষ্কাশনমুখ দুটোই ভরাট হয়ে পড়েছে।

গত দুই-তিন দশকে নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। কোথাও নদীর ভেতরেই মাটি ভরাট করে বসতঘর ও দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এক সময় প্রায় ২০০ মিটার প্রশস্ত নদীটি সংকুচিত হয়ে অনেক স্থানে কয়েক ফুটে নেমে এসেছে। বর্ষা মৌসুমেও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসে না। আর শুকনো মৌসুমে হেঁটে পার হওয়া যায় নদীর একপাড় থেকে অন্যপাড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় নদী বিপন্ন হলেও, দৃশ্যমান কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দখল টিকিয়ে রাখতে দখলদারদের করা একটি রিট মামলার অজুহাতে নদী রক্ষার কার্যক্রমও থমকে আছে বলে দাবি তাদের। ফলে প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে নদীর পরিধি। এ অবস্থায় নদী পুরোপুরি বিলীন হওয়ায় আশঙ্কা করছে সচেতন মহল। দ্রুত দখল উচ্ছেদ, দূষণ বন্ধ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার দাবি উঠেছে সর্বত্র।

বিশ্বনাথ পুরানবাজারের ব্যবসায়ী ফখরুল রেজা বলেন, দুর্গন্ধ আর বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে বাজারে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরা খুবই অসুবিধার মধ্যে আছি।

‘বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক ফজল খান বলেন, বাসিয়া নদী রক্ষা করতে দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন করছি, কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। কারণ এখানে রক্ষকরাই ভক্ষক।

বিশ্বনাথ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘দূর্গন্ধের জন্য নদীর দুই তীরে নিয়মিত দেয়া হচ্ছে ব্লিচিং পাউডার। আর বিশ্বনাথ পৌর শহরের নতুন ও পুরান বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য স্থাপন করা হচ্ছে স্থায়ী ডাস্টবিন।’

এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি বলেন, প্রতিদিন নদীতে প্রচুর ময়লা পড়ছে। এখন এগুলো তুলতে হবে। তার আগে ময়লা ফেলাও বন্ধ করতে হবে। নদীর পাশেই ৩-৪টা বড় স্থায়ী ও কিছু অস্থায়ী ডাস্টবিনও তৈরি করা হবে। এ ছাড়া ‘নদী রক্ষায় করণীয় সভা’র মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.