Sylhet Today 24 PRINT

কমলগঞ্জে ঝড়ে গাছ ভেঙ্গে রেল ও সড়কপথ সাময়িক বন্ধ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:  |  ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সোমবার দিবাগত রাতে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ ও সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মুন্সিবাজারে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলে বন্যায় অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি এবং ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহৎ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, গত সোমবার দিবাগত রাতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার মুন্সিবাজার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে গাছ ভেঙ্গে পড়ায় সোমবার ভোর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ বন্ধ হয়ে পড়ে। শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিটের পাশে রেলপথে গাছ ভেঙ্গে পড়ে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন ৪০ মিনিট আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজারো যাত্রীরা। এরআগে গত রোববারের কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫৫টি ঘর বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ লাইন ও ব্যাপক গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতে ও উজানের ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঢলের পানিতে মুন্সিবাজার ও পতনঊষারের অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ধলাই, লাঘাটা নদীসহ পাহাড়ি ছড়া সমুহে পানি বিপদ সীমার মধ্যে রয়েছে। মঙ্গলবার বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রজত কুমার বলেন, ঝড়ে শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট এলাকায় রেলপথে গাছ ভেঙ্গে পড়ে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন লংলা স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট আটকা পড়ে।

মুন্সীবাজার কালিপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার পাল বলেন, ঝড়ের কারনে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মঙ্গলবার এই কেন্দ্রে সরবরাহ ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীদের কিছুটা অসুবিধা দেখা দেয়।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদ সীমার দেড়ফুট নিচে রয়েছে। নদনদীর পানি সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হচ্ছে।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ঝড় ও বৃষ্টিপাতে নিম্নাঞ্চলে কেওলার হাওরে কিছু বোরোধান নিমজ্জিত হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষয়ক্ষতি ও গাছগাছালি ভেঙ্গে সড়কপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত না হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।

নিমজ্জিত হচ্ছে বোরো ধান : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হচ্ছে। পতনঊষার ইউনিয়নের কেওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকায় ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই চিত্র পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত দু’দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল রাত থেকে দ্রুত কেওলার হাওরে প্রায় ৫শ’ হেক্টর বোরোধান ডুবে গেছে। এছাড়া মুন্সিবাজার, শমশেরনগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও বোরোধান এবং সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টিপাত ও ঢলে বোরো ধান সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে ৭০ হেক্টর ও আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে ৩৫০ হেক্টর। সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হওয়ার সর্বশেষ তথ্য এখনও আসেনি।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এই অঞ্চলে গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে । আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

কমলগঞ্জের কেওলার হাওরের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, গত দু’দিনের বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে অনেক এলাকায় আগাম বন্যা হয়েছে। এতে পতনঊষারের কেওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আধা পাকা বোরোধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। বোরো ধানের পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকার সবজি ক্ষেতও নিমজ্জিত হচ্ছে। ঢলের পানি দীর্ঘ সময় নিমজ্জিত থাকলে কৃষকরা পুরোদমে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ধান কাটার সময় হাওরের সকল ধান ডুবে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ করে ধান চাষ করছেন। এসব কৃষক কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের এতো ক্ষতি হবে বুঝতে পারিনি।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বোরোধান ৭০ হেক্টর ও আংশিক ৩৫০ হেক্টর নিমজ্জিত হয়েছে। তাছাড়া সবজি ক্ষেতের বিষয়ে এখনও তথ্য আসেনি। পানি দ্রুত নেমে গেলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা নয় বলে তিনি জানান।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.