Sylhet Today 24 PRINT

বন্যার পদধ্বনি

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

প্রতীকী ছবি

সিলেট-সহ সারাদেশে চলছে বৃষ্টি। আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানা যাচ্ছে, বৃষ্টি চলবে আরও কয়েকদিন। এর মধ্যে ভারতের উজান থেকে ঢলও নামছে। মরা নদী ভরছে পানিতে। এমতাবস্থায় দেশে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ১ মে পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা (বজ্রমেঘ) তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে ঝরছে বৃষ্টি। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সিনপটিক অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, মৌসুমি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

সাধারণ প্রাক-বর্ষা মৌসুমে হিমালয় ঘেঁষে আসা এই লঘুচাপের কারণে সাগর থেকে জলীয়বাষ্প নিয়ে আর্দ্র বাতাস উত্তরের দিকে প্রবাহিত হয় এবং উত্তরের হালকা বাতাসের সঙ্গে মিশে বৃষ্টি নামায়। লঘুচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর আশে পাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য রয়েছে।

নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে আজও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির দ্য বলছেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১ মে পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।’

দেশের ৪টি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

নেত্রকোণার ভুগাই কংশ নদী প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার, মগরা নদী ২ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজারের মনু নদী বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্তব্যরত কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘নেত্রকোণা ও মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে হবিগঞ্জ, সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের কোনো নদীর পানি প্রাক-বর্ষাকালের বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা পিয়াইন, সারিগোয়াইন নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি সমতল মান বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা থাকে ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পানি ছিল ৫ দশমিক ৮৮ সেন্টিমিটার। সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা থাকে ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার।

সিলেট বিভাগে গত কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা থেকে থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, ‘এই প্রাক-বর্ষা মৌসুমে ধীরে ধীরে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পায়। এই পানি বৃদ্ধি পায় মূলত ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও দেশের বৃষ্টিপাতে। ইতোমধ্যে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা পিয়াইন, সারিগোয়াইন নদীর পানির সমতল মান বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সিলেটের সব নদীর পানি এখনো বিপদসীমার অনেক নিচে অবস্থান করছে। উজানে বৃষ্টিবলয় আছে ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাই আমাদের নদনদীর পানি এখন বৃদ্ধি পাবে।

অতি-বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে হাওরে পানি জমেছে। বন্যার শঙ্কায় প্রশাসন কৃষকদের ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.