ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ: | ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
বৃহস্পতিবার সকালটাই শুরু হয়েছে রোদের ঝিলিক দিয়ে। টানা বৃষ্টির পর রোদের দেখা পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষমের মুখে।
রোদের দেখা পাওয়ায় ব্যস্ততা বেড়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামের পূর্বে অবস্থিত নাগডরা হাওরের কৃষক সাজিদ মিয়ার। টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে যে জমির অবস্থা ছিলো ডুবু ডুবু সেই জমিতে আপাতত বাড়ছে না পানি। এতেই খুশি তিনি। এভাবে আরও দু’দিন থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে জানিয়েছেন এই কৃষক। শুধুমাত্র দরকার অনুকূল আবহাওয়ার।
এসব তথ্য যখন জানাচ্ছিলেন তখন হঠাৎ কথা থেমে যায় তাঁর। দুই কিয়ার (৬০ শতাংশ) জমির কাটা ধান স্তুপ করা ছিলো গত ৪দিন। ধানে গেরা উঠে গিয়েছে অর্থাৎ চারা গজিয়েছে। এ ধানের অবস্থা শোচনীয়। আজ কিছুটা রোদ উঠায় নতুন করে ধান কাটায় নয়, তাঁর ব্যস্ততা কাটা ধান শুকানো নিয়ে। এ দৃশ্য শুধু নাগড়ার কৃষক সাজিদ মিয়ার নয়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রায় অধিকাংশ কৃষকের দশাই এমন।
বৃহস্পতিবার বিকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি ও দরগাপাশা ইউনিয়নের ছয়হারা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খলায়, রাস্তায় ব্রিজে ধান শুকাতে চরম ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। আস্তমা গ্রামের নাইন্দা নদীর পাড়ের খলার বেশ কিছু অংশ পানিতো ডুবে গিয়েছে। ভাসমান অংশে ব্যস্ততার অন্ত নেই কৃষকদের৷ কৃষকের ব্যস্ততার চেয়ে বেশি ব্যস্ততা যেনো কৃষাণীদের৷ কেউ ধান ফেলছেন, কেউ নেড়ে দিচ্ছেন। সকলের রোদ জলমল করা হাসি। একই দৃশ্য চিকারকান্দি গ্রামের মাঠে। দরগাপাশার ছয়হারা সেতুর উপর ধান আর ধান। বেশ কিছুদিন রোদ উঠায় ব্রিজে ধান ফেলে শুকাচ্ছেন কৃষকরা। তাঁদের প্রত্যাশা, স্রষ্টা যেনো আরো অন্তত একটি সপ্তাহ বৃষ্টি না দিয়ে কড়া রোদ রাখেন। তাতে হাওরের সমস্ত ধান কেটে, শুকিয়ে গোলায় তোলা যাবে৷
অপরদিকে বড় কৃষকরা জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ একটি দূর্যোগ প্রবণ এলাকা। এখানে প্রতি বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করতে কৃষকদের। বৈশাখ মাসে ঝড়-তুফান, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। একনাগাড়ে বৃষ্টিপাত থাকলে প্রতি বছরই ধানে গেরা উঠে যায়। কৃষি অফিসের উচিৎ, হাজারো কৃষকের কথা মাথায় রেখে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে ‘ড্রাই মেশিন’-এর ব্যবস্থা করা৷ তা না হলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান এভাবেই প্রতি বছর বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কৃষকদের জন্য কার্যকর ও বিজ্ঞান সম্মত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
ছয়হারা গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়ার ছেলে শাওন আহমদ ও সায়েম আহমদ জানান, আমরা প্রতি বছর অন্তত বেশ কিছু জমি চাষাবাদ করি। এ বছর ৪০ কিয়ার চাষ করেছি। প্রায় ২৫ জমির ধান কাটা হয়েছে। ২০০ মন ধানে শুকানোর অভাবে গেরা উঠে গেছে। আর রোদ উঠেছে। রাস্তা, বাড়ির ছাদ ও উঠান মিলিয়ে ৭০/৮০ মন আজ (গতকাল) শুকিয়েছি। এভাবে আরো এক সপ্তাহ থাকলে হাওরের সব ধান উঠে যাবে।
আস্তমা গ্রামের কৃষক আঙ্গুর মিয়া জানান, আমাদের মনে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। আজ (গতকাল) কিছু রোদ দেওয়ায় মানুষ খলায় ব্যস্ত ছিলো ধান শুকানোর কাজে। আরো কিছুদিন এমন থাকার দরকার। চিকারকান্দি গ্রামের কৃষক রোমন আহমদও একই দাবি করেন।
শান্তিগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবীব জানান, দীর্ঘদিন ধরে ড্রাই মেশিনের দাবি আছে শান্তিগঞ্জ উপজেলায়। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দরখাস্ত পাঠিয়েছি। প্রতি ইউনিয়নে একটি করে ড্রাই মেশিন দেওয়ার আবেদন করেছি। আশা করছি আগামী বছর এর একটা ব্যবস্থা হবে।