Sylhet Today 24 PRINT

সাবেক স্বামীর বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে এসপিকে ঘুষের চেষ্টা, নারীসহ দুজন জেলে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি |  ০১ মে, ২০২৬

সাবেক স্বামীকে আটক করানোর জন্য মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের (এসপি) হাতে ঘুষ দিতে গিয়ে এক নারী ও তাঁর সহযোগী আটক হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।

শুক্রবার (১ মে) তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুলাউড়া থানা থেকে ওই দুজনকে আটক করা হয়।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের তাহির আলীর মেয়ে জেসমিন আক্তার ও একই ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ।

জানা গেছে, জেসমিন আক্তার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের বিচ্ছেদ হয়েছে। এর পর থেকে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছে। আর মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ একজন ব্যবসায়ী।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে থানা-পুলিশ জানিয়েছে, মাহতাব মিয়া সম্প্রতি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ খবর শুনে তাঁর বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে পরিকল্পনা করেন সাবেক স্ত্রী জেসমিন আক্তার। তাঁদের মধ্যে একটি মামলাও চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী জেসমিন ২ লাখ টাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যবসায়ী সামাদকে সঙ্গে নিয়ে কুলাউড়া থানায় আসেন।

এদিকে কয়েক দিন ধরে এসপি মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের মোবাইল ফোন নম্বরে কল করে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুমতি চেয়ে আসছিলেন জেসমিন। বৃহস্পতিবার পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানের সঙ্গে বিল্লাল হোসেনের থানা পরিদর্শনে আসার পূর্বপ্রস্তুতি ছিল। সে জন্য এসপি তাঁকে ওই দিন কুলাউড়া থানায় এসে দেখা করতে বলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন দুপুরে কুলাউড়া থানায় পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে সামাদ কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে জেসমিনের কাছ থেকে নেওয়া একটি খাম পুলিশ সুপারের হাতে দেন। এসপি খামটি খুলে ভেতরে টাকা দেখতে পান। এরপর দুজনকেই আটকের নির্দেশ দেন বিল্লাল হোসেন।

এদিকে ঘুষ দেওয়ার সময় জেসমিনের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ তোলেন জেসমিন। পুলিশ জানিয়েছে, জেসমিন আক্তারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে সেখান থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরিয়ে ৪০ হাজার টাকা খামে ভরে পুলিশ সুপারের কাছে দিতে যান।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা আজ শুক্রবার বলেন, ‘এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটক সামাদ ও জেসমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কুলাউড়া থেকে জেসমিন আক্তার নামের এক নারী বেশ কয়েক দিন ধরে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য মোবাইল ফোনে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মৌলভীবাজারে আমার অফিসে এসে দেখা করতে চাইলে আমি তাঁকে কুলাউড়া থানায় এসে দেখা করতে বলি। কুলাউড়া থানায় ওই নারী সামাদ নামের এক যুবককে নিয়ে আমার সঙ্গে তাঁর সমস্যার কথা বলেন। কথা বলার একপর্যায়ে সামাদ আমার হাতে একটি খাম দিলে সেটি খুলে ২০০ টাকার দুই বান্ডিল নোট দেখতে পেয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে টাকাসহ আটক করাই। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.