Sylhet Today 24 PRINT

মাটি ধসে হুমকির মুখে পুরোনো ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক

মাধবপুর প্রতিনিধি |  ০২ মে, ২০২৬

টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে মাটি ধসে পড়ায় হবিগঞ্জের পুরোনো ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকি নিয়েই সড়কটিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে চুনারুঘাট উপজেলার রামগঙ্গা ও চন্ডিচড়া চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় মহাসড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশের পাশের মাটি ধসে গেছে। এতে প্রায় ১৫ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সড়কের বড় অংশ ধসে গিয়ে পাশের ছড়ায় বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে এই গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সড়কটির যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

এলাকাবাসী জানান, এর আগেও পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাগানছড়া এলাকায় পরিবেশ নষ্ট করে নিচু স্থান থেকে বালু উত্তোলনের ফলে মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে সুরমা চা বাগান এলাকাতেও। পাহাড়ি পানি সরাসরি সড়কের পাশে আঘাত হানায় ভাঙন আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া বলেন, এই মহাসড়কের মাটি বালুমিশ্রিত হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে খুব সহজেই ধসে পড়ে। প্রতি বছরই কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয় না। ফলে প্রতিবছরই একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর রামগঙ্গা-চন্ডিচড়া মাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো সড়কই ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল। এ সময় স্থানীয়রা তার কাছে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান। তারা বলেন, সড়কের পাড় শক্তভাবে রক্ষা না করা হলে যেকোনো সময় এটি ধসে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য অবহিত করার আশ্বাস দেন। তার নির্দেশনায় প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বাঁশ ও টিন দিয়ে অস্থায়ীভাবে সড়ক রক্ষার কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। তবে স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতিবছরই সড়কের বিভিন্ন স্থানে এমন ভাঙন দেখা দেয়। আপাতত বাঁশ ও টিন দিয়ে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য ভাঙনপ্রবণ এলাকায় পাকা গাইড ওয়াল নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এ পর্যন্ত প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দ্রুতই প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.