Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততম দিন, নতুন আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০২ মে, ২০২৬

সিলেটে এসে ব্যস্ততম এক দিন কাটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনভর অংশ নিলেন নানা কর্মসূচীতে। উদ্বোধন করলেন নদী খনন কর্মসূচীর, ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করলেন নগরের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন কর্মসূচীর। সিলেট থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করলো শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

আর শোনালেন সিলেটের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, সিলেট-ঢাকা রেলপথ ডাবল লেন করা, অচীরেই সিলেটের ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু করা, ওসমানী হাসপাতালকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করাসহ সিলেটের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ আর পরিকল্পনার কথা শোনালেন প্রধানমন্ত্রী।

এতে করে সিলেটের উন্নয়নে নতুন করে আসার সঞ্চার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এসব আশ্বাস কতটুকু বাস্তবায়ন হয় তাই এখন দেখার অপেক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শনিবারই প্রথম সিলেট সফরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। তাই এই সফর নিয়ে ছিলো ব্যাপক প্রত্যাশা। নানাক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা সিলেটের উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এগিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা ছিলো সিলেটবাসীর।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার পর রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সিলেটবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকা সিলেট এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততায় সিলেটের উন্নয়নে গতি আসবে—এমন প্রত্যাশাই ছিল নগরবাসীর, যা এই সফরের মাধ্যমে বাস্তব রূপ পেতে শুরু করেছে।

এরআগে শনিবারর সকালে তুমুল বৃষ্টির মধ্যে মন্ত্রী পরিষদের একাধিক সদস্যকে নিয়ে সিলেটে আসেন তারেক রহমান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জোবাইদা রহমানও।

সিলেটে এসে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারত শেষে চাঁদনীঘাটে সুরমা নদীর উভয় তীরের সৌন্দর্যবর্ধন এবং বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর নগরভবনে সুধী সমাবেশে অংশ নেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজের জমি অধিগ্রহণে ১১ টি জায়গায় সমস্যা ছিলো। এজন্য কাজ আটকে ছিলো। এই সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবো। কাজ শেষ হতে দেরি হবে। তবে শুরু হলে তো শেষও হবে। এতে মানুষের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হবে।

কেবল সড়কপথ নয়, সরকার রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগও নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাস্তা যত বড় করবে তত গাড়ি নামবে। তত ট্রাফিক জ্যাম বাড়বে। রাস্তা বড় করলে ফসলি জমিও নষ্ট হবে। এজন্য রেলের উন্নয়ন করতে হবে। আমরা ঢাকা-সিলেট রেল রেলপথেকে ডাবল লাইন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

সিলেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া সিলেট হাসপাতালকে (ওসমানী হাসপাতাল) আমরা ১২শ’ শয্যার উন্নীতের চেষ্টা করবো।

তিনি বলেন, কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, আমাদের মতো দেশগুলোকে রোগ প্রতিরোধেও সচেতন হওয়া দরকার। এজন্য আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করবো। যাদের ৮০ ভাগ হবেন নারী। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে মানুষের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করে তুলবে।

পরে সদর উপজেলায় বাসিয়া নদী খননের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জনসভায় বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বন্ধ হয়ে পড়া সবগুলো আমরা ধীরে ধীরে চালু করবো। যাতে করে আমাদের দেশের বেকার মানুষদের কর্মমসংস্থান হয়।

শুধু তাই, যেসব দেশের শ্রম বাজার বন্ধ আছে সেগুলোও আমরা চালু করার ব্যবস্থা করছি। অতিদ্রুতই সেসব দেশে মানুষ যাওয়া আবার শুরু হবে।

এসময় তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, সারাদেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করবো। আমরা শুরু করেছে। আজ এই বাসিয়া খাল পূণঃখনন কাজের উদ্বোধন করলাম। এই খাল খনন শেষে দুই পারে আমরা ৫০ হাজার গাছ লাগাবো। সেখানে স্থানীয়রা প্রকৃতির সান্নিধ্য পাবেন। আমরা ফলজ গাছও লাগাবো।

তিনি বলেন, বাসিয়া পুণঃখনন শেষ হলে সরাসরি ৮০ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। আর পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে আরও অন্তত দেড় লাখ মানুষ। এতে বছরে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। আমরা দেশের ৬০ জেলায় খাল খনন শুরু করেছি।

বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার থেকে আমরা আমাদের সামর্থ দিয়ে ছোট্টবন্ধুদের পাশে আছি। তা হোক লেখাপড়া বা খেলাধুলার। তোমরা যারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, খেলোয়াড়, গায়ক, মিউজিশিয়ান- যে যা হতে চাও, সরকার তোমাদের সহযোগীতা করবে।। যে গান শিখতে চায়, সে গান শিখবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চায়, সে মিউজিশিয়ান হবে, সেই ব্যবস্থা আমরা করবো।

আর সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

এসময় নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি ক্ষমতাসীন দলে কর্মী এই জিনিসটা মাথায় আনা যাবে না। এটি মাথায় আনলেই বরবাদ হয়ে যাবে। নেতাকর্মীদের আচরণে জনগন যাতে অসন্তুষ্ট না হয় সেদিকে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.