Sylhet Today 24 PRINT

একসঙ্গে কাজে বেরিয়েছিলেন: দুর্ঘটনায় স্বামী মারা গেছেন, স্ত্রী আহত

স্বামী মারা গেছেন জানেন না আহত স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৩ মে, ২০২৬

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বদরুজ্জামান। এতে আহত হয়েছেন তার স্ত্রী হা‌ফিজা বেগমও। তবে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাফিজা এখনও জানেন না তার স্বামীর মৃত্যুর খবর।

জানা যায়, রোববার ভোরে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে কাজে বেরিয়েছিলেন। ঘরে রেখে গিয়েছিলেন চার শিশুকে। কিন্তু কর্মস্থলে যাওয়ার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান স্বামী। একই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্ত্রী। হাসপাতালে মায়ের বিছানায় বসে থাকা এই দম্পতির চার শিশু সন্তান কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।


রোববার সকাল ছয়টার দিকে সিলেটের তেলিবাজার এলাকায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান (৪৫)। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী হাফিজা বেগম (২৮)। তিনি বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে হাফিজা বেগম জানান, প্রায় দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে গ্রাম থেকে শহরে এসে বসবাস শুরু করেন। পরে দুজনেই নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ নেন। নগরের শামীমাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তাঁরা।

দুর্ঘটনার বিষয়ে হাফিজা জানান, পিকআপে করে কাজে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি মাথায় আঘাত পান। এরপর আর কিছু মনে নেই। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারেন, তিনি চিকিৎসাধীন। তাঁর ধারণা স্বামীও বেঁচে আছেন, একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বেলা পৌনে দুইটার দিকে হাফিজাকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ক্যাজুয়ালটি বিভাগ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় হাসপাতালের শয্যায় বসে ছিল তার চার সন্তান। আর নিহত আটজনের মরদেহের সঙ্গে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বদরুজ্জামানের মরদেহও।

হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নিহত বদরুজ্জামানের চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ। তিনি বলেন, ‘বদরুজ্জামান চার শিশুসন্তান রেখে গেছে। তিন ছেলে, এক মেয়ে। কাজের জন্য সকালে স্বামী-স্ত্রী বেরিয়েছিল। পথে একজন (বদরুজ্জামান) মারা গেছে, আরেকজন হাসপাতালে। তাদের চারটি সন্তান আছে। এখন বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

নিহত দুই ভাই
আহত কয়েকজন জানান, ভবনে ঢালাইয়ের কাজের জন্য সিলেটের আম্বরখানা থেকে একটি পিকআপে করে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন তাঁরা। পিকআপে ২০ জন ছিলেন। সঙ্গে ছিল ঢালাই মেশিন। পিকআপটি তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় পিকআপে থাকা সবাই ছিটকে পড়েন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২) রয়েছেন। প্রায় ১০ বছর ধরে সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন।

বেলা একটার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নিহত দুই ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন তাঁদের খালাতো ভাই শামীম আহমদ। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দুর্ঘটনার খবর ও নিহত ব্যক্তিদের ছবি দেখে সন্দেহ হলে তিনি হাসপাতালে আসেন। পরে মরদেহ দেখে দুই ভাইকে শনাক্ত করেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। তাঁরা সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একসঙ্গে দুই ভাইকে হারিয়ে পরিবারে মাতম চলছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.