Sylhet Today 24 PRINT

বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে কাল সুনামগঞ্জ আসছেন দুই মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৪ মে, ২০২৬

অতিবৃষ্টি আর ঢলে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকার ফসল। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন হাওরের কৃষকরা। হাওরের এই ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে মঙ্গলবার সুনামসগঞ্জ আসছেন দুই মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিব।

মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিত হাওরাঞ্চল পরিদর্শনে আসবেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের অধিবেশন শেষে এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি জানান, হাওরাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক লাখ পরিবারকে তিন মাস সরকারের তরফে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার হবে।

অতি বৃষ্টি ও হঠাৎ বন্যায় গত কয়েকদিন হাওর ও নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক ফসলডুবির ঘটনা ঘটেছে। এমন ছয় জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার চেষ্টার কথাও বলেন তিনি।

কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে হেক্টর হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুলু সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে তাদের সুনামগঞ্জ সফরে যাওয়ার বলেন।

হাওরাঞ্চলে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা তো ইতিমধ্যে জেনেছেন এবং গণমাধ্যম থেকে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে যে হাওর অঞ্চল বিশেষ করে কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং উজানের পানি আসার কারণে।

”কোনো কোনো জেলায় দেখা যাচ্ছে যে, ৪০ ভাগ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৬০ ভাগ ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। আমরা যেহেতু দুর্যোগ নিয়ে কাজ করি, দুর্যোগ হলে সেখানে কাজ করতে যাচ্ছি।”

দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, “আমরা সেখানে একটা তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করেছি এই ছয়টি জেলায়। প্রায় এক লাখ পরিবারকে চিহ্নিত করেছি কম-বেশি কোনো কোনো জেলায়। আগামী তিন মাস তাদেরকে কিছু সহায়তা দান করব আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে। আর্থিক সহায়তা দেব এবং কিছু খাদ্য দেব সেই অঞ্চলে।

“পরবর্তীতে কৃষি পুনর্বাসনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে উনি (প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশনা দিয়েছেন। আর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে ওনারা কাজ করছেন, ওনাদের বিষয়ে যাতে ভবিষ্যতে এই যে বারবার হাওর অঞ্চলে যে ক্ষতি হচ্ছে, এটি একটি গবেষণার বিষয় কিন্তু।”

বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দুলু বলেন, “বজ্রপাত সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ বছরও হচ্ছে। এখানে কৃষকরা যাতে ওই সময়ে বিশেষ করে যারা ধান কাটার অবস্থায় থাকেন, তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বানাব আগামী বছর। এইটা আজকে জেলা প্রশাসকদের বলছি, ওনারা অ্যাসেসমেন্ট করবেন। হাওর এবং উত্তর অঞ্চলে এটা ব্যাপকভাবে হয়।

“সেখানে আশ্রয়কেন্দ্র বানাব এবং সেখানে টাওয়ার করে দেব যাতে বজ্রপাতের নিরোধ হয় এবং তারা ওই সময় আশ্রয় নিতে পারে এবং সেখানে সাইরেন দিয়ে সমস্ত কৃষককে অ্যালার্ট করে দেব।”

বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরাতো তিনটা স্তরে কাজ করে থাকি। দুর্যোগ শুরু হওয়ার পূর্বকালীন কিছু সতর্কবাণী দিয়ে থাকি। প্রস্তুতির মধ্যে বলি যে এই সমস্ত আশ্রয় কেন্দ্র যেগুলো নির্মাণ করেছি, অথবা যেগুলো স্কুল-প্রতিষ্ঠানে আছে, সেখানে আশ্রয় নিতে বলি।

“দুর্যোগ চলাকালীন তাদের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা দান করি। আবার দুর্যোগের পরে পুনর্বাসনের কাজগুলো করি। তিনটা স্তরে কাজ করে থাকি। সে প্রস্তুতি আছে।”

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.