সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৪ মে, ২০২৬
কিছুদিন ধরে অসুস্থ বোধ করছিলেন ইউসুফ আলী। চিকিৎসক দেখানোর জন্য বড় মেয়ে, জামাতা ও ছোট মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু তারা হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি। পথিমধ্যে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও নিহত হয়েছেন অটোরিকশাচালক।
সোমবার দুপুরে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ছাতকের জালালপুর-বদিরগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইউসুফ আলীর (৫৫) বাড়ি তাহিরপুর উপজেলার তিয়রজালাল গ্রামে। নিহত অন্যরা হলেন- ইউসুফ আলীর দুই মেয়ে নিলুফা আক্তার (৩৫) ও কেয়া আক্তার (১৫), জামাতা একই উপজেলার বিন্নাকুলি গ্রামের মো. শাহাব উদ্দিন (৪০)। এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের পূর্ব নোয়ারাই গ্রামের অটোরিকশাচালক মানিক মিয়া।
নিহতদের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে অটোরিকশায় সিলেটের দিকে রওনা হন ইউসুফ, নিলোফা, সাহাবুদ্দিন ও কেয়া। অটোরিকশাটি ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর-বদিরগাঁও গ্রামে পৌঁছালে বিপরীত দিকে থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে সিলেটে থেকে যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জের দিকে আসছিল রিফাত পরিবহন। এসময় সুনামগঞ্জ থেকে সিএনজি ইন্নী পরিবহন-১ করে সিলেটে যাচ্ছিলেন ইউসুফ আলী, তার দুই মেয়ে ও জামাতা। পথে ছাতক উপজেলার জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হঠাৎ করে রিফাত পরিবহনের বাসটি লেন পরিবর্তন করে বাম দিকে থেকে ডান দিকে চলে যায় এবং তাদের পরিবহন করা সিএনজিকে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমরে মুছড়ে গিয়ে অনেক দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। বাসটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডান দিকের খাদে পড়ে উল্টে যায়। বাসটি উল্টে যাওয়া বাসের কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়।
বাসের ধাক্কায় দুমরে মুছড়ে যাওয়া সিএনজির চালক ও ইউসুফ আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান। ইউসুফ আলীর দুই মেয়ে নিলুফা আক্তার , কেয়া আক্তার ও মো. শাহাব উদ্দিন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের সবার মৃত্যু হয়।
ইউসুফ আলীর ছেলে শুভ আহম্মেদ বলেন, ‘আমার বাবা, দুই বোন ও বোন জামাই সিলেটে ডাক্তার দেখানোর জন্য অটোরিকশায় হাসপাতলে যাচ্ছিলেন। পথে দুর্ঘটনায় তারা মারা গেছেন। এই শোক আমরা কীভাবে সইবো!’
জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইদুল ইসলাম ডালিম বলেন, হঠাৎ করে বিকট শব্দ শুনে আমরা এগিয়ে গিয়ে দেখি একটি বাস বাম দিক থেকে গিয়ে ডান দিকের খাদে পড়ে আছে। একটি সিএনজি বাসের পাশের দুমরে মুছড়ে রয়েছে। ঘটনাস্থলেই সিএনজির চালকসহ দুইজন যাত্রী মারা যায়। বাসটি সিলেট থেকে নিয়ম মোতাবেক সড়কের বামপাশ দিয়ে সুনামগঞ্জে যাওয়ার কথা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন, আমি সড়কের পাশেই বাড়ির সামনে কাজ করছিলাম। হটাৎ দেখি একটি বাস রাস্তার বাম পাশ থেকে একটি সিএনজিকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ডান দিকে যাচ্ছে। পরে দেখি সিএনজির দুইজন মারা গেছে। সিএনজির ভেরতে থাকা দুই মহিলাসহ আরও তিন জন আহত হয়েছেন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে আমরা সিলেটে পাঠাই।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, ছাতকের জালালপুর এলাকায় বাস-সিএনজি দুর্ঘটনায় সিএনজি চালকসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। দুই জনের লাশ সুনামগঞ্জে আছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।