নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ মে, ২০২৬
সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এগিয়ে এসেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নির্ধারিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল-এর সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার সকালে হাসপাতালটিতে হাম রোগীদের চিকিৎসা সেবা পরিদর্শনে গিয়ে সিসিক প্রশাসক মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখায় জনবল সংকট থাকলেও হামের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত এই হাসপাতালকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিতভাবে হাসপাতালের ভেতরের আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি আশপাশের ঝোপঝাড়ও পরিষ্কার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা হামের চিকিৎসা কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সার্বক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদারকি করছেন। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি, যাতে কোনো রোগী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
পরিদর্শনকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় ধাপে ধাপে শামসুদ্দিন হাসপাতালকে নির্ধারিত করা হয়েছে। তিনি জানান, ওসমানীতে ১০টি নিবিড় শিশু পরিচর্যা ইউনিট (পিআইসিইউ) চালুর পর রোগীর চাপ সামাল দিতে শামসুদ্দিন হাসপাতালে অতিরিক্ত ৬-৭টি নিবিড় শিশু পরিচর্যা ইউনিট চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। যদিও হামের জন্য পূর্ব প্রস্তুতি সীমিত ছিল, তবুও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে এবং আরও ওষুধ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। অনেক চিকিৎসক ব্যক্তিগত উদ্যোগে রোগীদের সহায়তা দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সিসিক প্রশাসকের আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, সম্মিলিত উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে, জনসচেতনতা বাড়াতে শুরু থেকেই কাজ করছে সিসিক। মাইকিং, প্রচার অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
বর্তমানে সিলেটে হামের চিকিৎসা সেবা যৌথভাবে পরিচালিত হচ্ছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল-এর সমন্বয়ে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সমন্বিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে আক্রান্তরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাবেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
এ সময় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, ওসমানী হাসপাতালে ১০টি নিবিড় শিশু পরিচর্যা ইউনিট (পিআইসিইউ) চালুর পাশাপাশি রোগীর চাপ সামাল দিতে শামসুদ্দিন হাসপাতালেও অতিরিক্ত ৭টি পিআইসিইউ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউতে ১০ জন এবং শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে ৫ জন এবং সাধারণ বেডে ৮৭ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিদর্শনকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন, সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।