ডেস্ক রিপোর্ট | ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ৩২তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটস্থ ওসমানী জাদুঘর প্রাঙ্গণে আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গরবার বিকেল ৪ টায় খতমে কোরআন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ওসমানী মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ট্রাস্টি এডভোকেট নওসাদ আহম্মদ চৌধুরীর সভাপতিত্ব ও এম সি কলেজ সিলেটের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ বিলাল উদ্দিনের উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ বোটানী অ্যান্ড টি প্রোডাকশন টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, কৃষি অনুষদের ডিন ও পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. এ.এফ.এম. সাইফুল ইসলাম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান ও কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের প্রাক্তন ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান মজুমদার, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম।
বক্তব্য রাখেন এম সি কলেজ সিলেটের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. সাহেদা আখতার, ওসমানী স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি মোঃ আব্দুল কাদির, জাতীয় জনতা পার্টি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি আখলিস আহমদ চৌধুরী, সিলেট জেলা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায় কমিটির আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা এম.এ বাছিদ চেয়ারম্যান, বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল সিলেটের স্পেশাল পিপি এডভোকেট কিশোর কুমার কর, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি এম মতিন বাদশা।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওসমানী জাদুঘরের সহকারী কীপার মোঃ জিয়ারত হোসেন খান। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা জোবায়ের আহমদ।
অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ ওসমানীর কর্মময় জীবনের প্রতি আলোকপাত করে বলেন যে, ওসমানী ছিলেন খাটি দেশ প্রেমিক, নির্লোভ রাজনীতিবিদ এবং গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গকারী। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনালের এম এ জি ওসমানী আমাদের অহংকার।
তার বলিষ্ট নেতৃত্বের কারণে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভোম রাষ্ট্র পেয়েছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ওসমানী এক কালজয়ী নাম। তার আত্মত্যাগ ও দেশ প্রেম আমাদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান বাঙ্গালী জাতি চিরদিন স্বরণে রাখবে।
তিনি সকল লোভ লালসার উর্দ্ধে থেকে দেশ সেবায় আত্ম নিয়োগ করেন। তিনি কোন অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার না করার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তার মত একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এর মত মানুষ আজ এদেশে বড় প্রয়োজন। জেনারেল এম এ জি ওসমানী এমন এক ব্যক্তি তাঁর সাথে কাউকে তুলনা করা যায় না। তার স্মৃতি আদর্শকে যদি ধরে রাখতে চাই তা হলে নতুন প্রজন্মের কাছে জেনারেল ওসমানীর অবদান তুলে ধরতে হবে।
স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের প্রতীক ছিলেন ওসমানী। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই মহান ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অপরিসীম অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের হ্দয়ের পটভূমিতে ওসমানী বেঁচে থাকবেন আজীবন। পাঠ্য পুস্তকে তার জীবনী অন্তর্ভূক্ত করার জন্য দাবী করা হয়।
শেষে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া এবং মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তবারক এবং জাদুঘরের পক্ষে শিরনী বিতরণ করা হয়।