নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ মে, ২০২৬
ফাইল ছবি
অর্ধশতাব্দি বা তারও বেশি সময় আগে শুরু হয় নগরের কাজির বাজার এলাকায় পশুর হাটের কার্যক্রম। দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সালিশি ব্যক্তিত্ব মকন মিয়ার হাত ধরে যাত্রা শুরু করে এ হাট। তিনি খানবাহাদুর এহিয়া ওয়াক্ফ এস্টেটের জায়গায় ওই পশুর হাট শুরু করেন। যা সময়ের সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের প্রধানতম পশুর হাটে পরিণত হয়।
মকন মিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে হামিদা খাতুনের নামে বন্দোবস্ত নিয়ে হাট পরিচালনা করে আসছিলেন তাঁর নাতি আফছর উদ্দিন। সরকারি আইন অনুযায়ী হাটবাজার জেলা প্রশাসকের আওতাধীন হলেও ওয়াক্ফ এস্টেটের সঙ্গে মামলা মোকাদ্দমা চলায় পশুর হাট দীর্ঘ সময়ে পরিচালনা করেন আফছর।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর জেলা প্রশাসন হাটটি সিটি করপোরেশনকে ব্যবস্থাপনার জন্য বুঝিয়ে দেন। এরও প্রায় আট বছর পর কাজির বাজার পশুর হাটটির দখল এবার প্রথমবারের মতো বুঝে পেয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এরপর সিসিকের পক্ষ থেকে এটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।
প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকায় সেটি ইজারা নিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি মাহবুব কাদির শাহী। তাঁর ব্যবস্থাপনায় শুরু হয়েছে হাট পরিচালনা।
শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেছে, নতুন ব্যবস্থাপনায় হাসিল আদায় করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুরাতন ছোট্ট একটি স্থাপনায় বসে কাজ করছেন তারা। নতুন ব্যবস্থাপনায় সিলেটের বিখ্যাত এ পশুর হাটের ঐহিত্য ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ ইজারাদারের। বিশেষ করে পশুর হাটের জায়গা আগের ব্যবস্থাপনায় একশ শতকের ওপরে হলেও বর্তমানে তার অর্ধেক বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার স্থান কমায় বাজার জমার সঙ্গে পশুর সংকুলান নিয়ে বিপত্তি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাবেক ইজারাদারের মালিকানাধীন জায়গা পশু রাখলে বাঁধ সাধতে পারেন তারা।
সূত্রমতে, সিলেট বিভাগের যে কয়টি স্থায়ী বড় ও বিখ্যাত পশুর হাট রয়েছে তার মধ্যে নগরীর কাজির বাজার পশুর হাট অনেক পুরাতন ও জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা পশু নিয়ে আসেন হাটটিতে। আয়তনের দিক থেকে সিলেটের আরও কয়েকটি হাট থাকলেও জনপ্রিয়তা ও হাসিল আদায়ে কাজির বাজারই প্রধান। বিভাগের বড় পশুর হাটগুলোর মধ্যে ছাতকের জাউয়া বাজার এক কোটি ৮৪ লাখ, জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজার দেড় কোটি, জকিগঞ্জের শাহবাগ ও কালীগঞ্জ বাজার কোটি টাকার কাছাকাছি ইজারা গিয়েছে।
প্রথমবারই এক বছরের জন্য কাজির বাজার পশুর হাট ইজারা যায় দুই কোটি ৬১ লাখ টাকায়। ভ্যাট-ট্যাক্সসহ তিন কোটি ৪০ লাখ টাকায় ইজরা নেন সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি মাহবুব কাদির শাহী ও কয়েকজন নেতা।
এ বিষয়ে মাহবুব কাদির শাহী বলেন, তারা হাটের বন্দোবস্ত বুঝে পেয়ে ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করেছেন। মানচিত্র অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানের বাইরেও হাটের আরও কিছু জায়গা রয়েছে। স্থান সংকুলানের বিষয়টি সিসিক দেখেব।
এ বিষয়ে আফছর উদ্দিনের ম্যানেজার শাহাদত হোসেন লোলন জানিয়েছেন, তারা পশুরহাটের জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। হাটের প্রায় ৫১ শতক জায়গা রয়েছে। হাটের আশপাশের জায়গা ও স্থাপনা আফছর উদ্দিনের ব্যক্তি মালিকানাধীন।