Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে উদ্বোধনের পরই মুখ থুবড়ে পড়েছে ‘কৃষকের হাট’

সিন্ডিকেট ভেঙে কম দাম পণ্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে এই হাট চালু হয়েছিলো

নিজস্ব প্রতিবদক |  ১৯ মে, ২০২৬

উদ্বোধনের পর থেকেই ফা্ঁকা কৃষকের হাট (বাঁয়ে)। ১১ এপ্রিল এই হাটের উদ্বোধন করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছিল ‘কৃষকের হাট’।

কৃষকরা আশা করেছিলেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তারা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং সাধারণ মানুষও কম দামে টাটকা সবজি ও কৃষিপণ্য পাবেন। কিন্তু উদ্বোধনের পর মাত্র একদিন চালু থাকার পর বন্ধ হয়ে গেছে এ উদ্যোগ।

গত ১১ এপ্রিল সিলেটের টিলাগড় পয়েন্টে প্রথমবারের মতো এ হাটের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কৃষি বিভাগ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল, হাটটি প্রতিদিন বসবে। পরে সিদ্ধান্ত বদলে সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার হাট বসানোর কথা বলা হয়। তবে বাস্তবে উদ্বোধনের পরদিন মাত্র একবারই হাট বসেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর আর কোনো দিন সেখানে কৃষকদের পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায়নি।

সিলেট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত জামিলের দাবি, হাটটি বন্ধ হয়নি, কাগজে-কলমে চালু রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলায় স্থানীয়ভাবে সবজি উৎপাদন কিছুটা কম। তাই কৃষকরা হাটে আসছেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কৃষকরা আবার যোগাযোগ করবেন এবং হাট পুরোদমে চালু হবে।’ উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যৌথভাবে বাজার তদারক করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমের বিষয়টি কেবল অজুহাত। বর্ষার মধ্যেও সিলেটের গ্রামীণ বাজারগুলোতে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ স্থানীয় কৃষিপণ্য ও সবজি উঠছে। মূলত উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের ভেতরের সমন্বয়হীনতা এবং একে অপরের ওপর দায় দেয়ার কারণেই এ চমৎকার উদ্যোগটি ভেস্তে যেতে বসেছে।

স্থানীয় সোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হক আনহার বলেন, ‘কৃষকের হাট উদ্যোগটি অনেক ভালো ছিল। আমরা স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেছিলাম, সরাসরি কৃষকের হাত থেকে সবজি ও পণ্য কিনতে পারব। এখন মনে হচ্ছে, সব আইওয়াশ। দু-একদিন গিয়ে ফিরেও এসেছি।’ টিলাগড় এলাকার শাপলাবাগের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বলা হয়েছিল, শনি ও মঙ্গলবার হাট বসবে। কিন্তু গিয়ে শেডের দিকে তাকিয়ে দেখি, কেউ নেই।’

সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, ‘কৃষকের হাটের মতো একটি জনহিতকর উদ্যোগ শুরু না হতেই থমকে যাওয়া হতাশাজনক। কৃষি বিভাগের উচিত ছিল কৃষকদের নিয়মিত যাতায়াত ও পণ্য আনার বিষয়টি নিশ্চিত করা। বর্ষার অজুহাত না দিয়ে দ্রুত এটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেয়া উচিত।’

তবে হাট চালু রয়েছে, নিয়মিত চলছে বলে দাবি করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুজ্জামান। উদ্বোধনের একদিন পর থেকে কখনো হাট বসেনি—এলাকাবাসীর এমন অভিযোগের কথা জানালে তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের জন্য সবজি উৎপাদন কম। তাই হয়তো কৃষকরা আসছেন না।’
সূত্র : বণিক বার্তা

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.