Sylhet Today 24 PRINT

ঈদের পর ধর্ষক ও মাদকসাক্তদের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ: ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৪ মে, ২০২৬

ঈদের পর ধর্ষক, নারী নিপীড়ক ও মাদকাসক্তসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রোববার সন্ধ্যায় নগরীর জালালাবাদের সোনাতলা গ্রামে নিহত শিশু ফাহিমার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, দেশে এ পর্যন্ত যত শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ অধিকাংশ অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মাদকসেবীদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাদক যেন সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল এবং দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়েও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

এরআগে রোববার বিকেলে নগরভবনে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতিক সময়ে সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এ বিষয়ে দ্বিমত করার কিছু নেই। যে ঘটনা আপনার-আমার চোখের সামনে ঘটছে তা তো মানতেই হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু অপরাধের বিষয়ে পুলিশ ও র‍্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুতই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া অপরাধীদের শনাক্তে সিলেট নগরে ফেস রিগকনেশন ক্যামেরা বসানো হবে।

উল্লেখ্য গত ৬ মে ফাহিমাকে নিজ ঘরে ডেকে এনে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষন করে হত্যা করে তারই চাচা জাকির হোসেন। এরপরন ৮ মে ফাহিমার লাশ পাশ্ববর্তী ডোবা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর অভিযান চালিয়ে ৯ মে আসামীকে গ্রেফতার করে জালালাবাদ থানা পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা আক্তার। এর দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এই ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।

১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় জাকির। ওই সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে সেটি সরিয়ে বাড়ির নিচে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জাকির।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.