শাল্লা প্রতিনিধি | ২৭ মে, ২০২৬
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পায়েল মিয়া(২০) মিয়া নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
তাহেরা বেগম (৪৫) নামে গুরুতর আহত একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়াল নুর ও সাইদুর রহমান গ্রুপের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আওয়াল নূর ও সাইদুর রহমান গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবারে ঘোষণা দিয়েই বুধবারে এই সংঘর্ষে জড়িয়েছে উভয়পক্ষ। গত বছরেও এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।
এতে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলাও করেছিল। মুলত এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে এবছরও উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে। সংঘর্ষে সাইদুর রহমান গ্রুপের একজন নিহত হয়েছে।
সংঘর্ষে পায়েল মিয়া (২০) নামে এক যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আর মুমূর্ষু অবস্থায় তাহেরা বেগমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে পাঠানো হয়।
এবিষয়ে সাইদুর রহমান জানান, জমিতে গরুর খাবার নিয়ে আওয়াল নুর গ্রুপের সাথে পাল্টাপাল্টি মামলা চলছে। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে আওয়াল নুর গ্রুপের লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে হঠাৎ অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় আমাদের ২জন লোক নিহত হয়৷
আরেক গ্রুপের আওয়াল নুর জানান, সাইদুর গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নদীর পাড়ে দিয়ে মহড়া দিচ্ছিল। আমরা কোনো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে যাইনি। তারা নিজেরাই মেরে আমাদের উপর দোষ দিচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ২০০৪ সালেও তারা মার্ডার করে আমাদের উপর দোষ চাপিয়েছে। এটাও আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
জানতে চাইলে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকিবুজ্জামান জানান, আমরা পায়েল মিয়া নামে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আরেকজন মহিলাকে মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে পুলিশে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।