নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
গত শুক্রবার বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলো ৪ শিশু। বুধবার সকালে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার একটি বিল থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এই ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
নিহত শিশুদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, শিশুরা নিখেখাঁজ হওয়ার সাথেসাথে তারা বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে জানালেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয় নি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের ঘটনায় নিহত শিশু শুভর বাবা ওয়াহিদ মিয়া শনিবার দুপুরে বাহুবল মডেল থানায় গিয়ে নিখোঁজের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
নিহত মনিরের বাবা আবদাল মিয়া বলেন, মাস খানেক আগে বড়ই গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে শুক্রবার তার ছেলেসহ ওই চার শিশুকে বাচ্চু মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যান আব্দুল হাই। টের পেয়ে তিনি ওই দিনই বিষয়টি পুলিশকে জানান। কিন্তু পুলিশ তাদের উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
একই ধরণের অভিযোগ জানান নিহত শিশু জাকারিয়া আহমেদ শুভর পিতা ওয়াহিদ মিয়া, তাজেল মিয়ার পিতা আব্দুল আজিজ এবং ইসমাইল হোসেনের পিতা আব্দুল কাদির।
যদিও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাহুবল থানার ওসি মোশাররফ হোসেন জানান।
তবে এ অভিযোগ তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছের ডিআইজি মিজানুর রহমান।
নিহত চার শিশু হলো- বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া শুভ (৮), প্রথম শ্রেণির ছাত্র মনির মিয়া (৭), চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাজেল মিয়া (১০) ও সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র ইসমাইল মিয়া (১০)। এদের মধ্যে তিনজন সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।
শিশুদের মরদের উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ৪ শিশু। একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে তাদের তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন অনেকে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার রাতে উপজেলার সব এলাকায় মাইকিং করেন স্বজনরা।
বুধবার সকালে বাহুবল উপজেলার গুন্দ্রাটেকি গ্রামের ঈসা বিল এলাকায় মাটির স্তুপের নিচে মরদেহের অংশ বেরিয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৪ শিশুকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। অন্য কোথাও হত্যার পর তাদের মরদেহ এখানে এনে মাটি চাপা দেওয়া হতে পারে।