দেবব্রত চৌধুরী লিটন | ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
সিলেট নগরীতে সুপেয় পানির সংকট এখন চরমে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের হিসাব মতে প্রতিদিন গড়ে ৮ কোটি লিটার চাহিদার বিপরীতে আড়াই থেকে ৩ কোটি লিটার সুপেয় পানি সরবরহ করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন গড়ে ৫ কোটি লিটার পানির সঙ্কট দেখা দিচ্ছে।
নগরীর মনিপুরী রাজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বজধন সিংহের সাথে পানি সাপ্লাই নিয়ে কথা হলে তিনি জানান, মনে কইলে পানি আয় না হইলে আয় না, অনেকটা খেয়াল খুশি মতই চলছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পানি সরবরাহ। এমন অবস্থা চলছে সপ্তাহ খানেক ধরে বলে তিনি জানান।
বুধবার নগরীর তোপখানায় স্থাপিত পাম্প হাউজে গিয়ে কথা হয় পাম্প অপারেটর আবুল আহমদের সাথে। তিনি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বর্ষায় এই পাম্প হাউজ থেকে আমরা পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে পারলেও শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি কম থাকার কারণে পানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে।
তিনি জানান ১৯৬৮ সালে স্থাপিত এই পাম্প হাউজে রিজার্ভ টেংকিতে গত বর্ষার কাদা জমা থাকায় পানি কম ধরছে টেংকিতে। কিছু দিনের মধ্যে কাদা অপসারিত হলে পানি ধারনের ক্ষমতা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে, এতে করে কিছুটা বেশি পরিমাণ পানি সরবরাহ করা যাবে।
সিলেট নগরের বর্তমান পানি সংকটের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আলী আকবর সিলেটটুডে টোয়েন্টি ফোর ডটকমকে বলেন," পানি সংকট সমাধানে আমরা ইতিমধ্যে বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। কুশিঘাট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু হলে দৈনিক আড়াই কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। এছাড়া তোপখানা পাম্প হাউজের বর্তমান সক্ষমতা দৈনিক ৬ লক্ষ লিটার পানি। এটাকে আধুনিকায়ন করা হলে প্রতিদিন ১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে।"
আগামী এক বছরের মধে আরো ৫টি টিউবওয়েলের মাধমে দৈনিক এক কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। তাছাড়া ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চেঙ্গের খালে যদি একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় এতে দৈনিক ৫ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০২০ - ২২ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
এ সময়ে প্রকৌশলী মো. আলী আকবর বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পানি সরবরাহে মাসিক খরছের পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা,পানি সরবরাহের মাধমে আয় হয় ১০-১২ লক্ষ টাকা। এতে করে প্রতি মাসে গড়ে ৪০ লক্ষ টাকা ঘাটতি থাকে। কর্পোরেশনের নাগরিকরা যদি নিয়মিত পানির বিল পরিশোধ করে সতস্ফুর্ত সহায়তা করেন এতে নতুন প্রকল্প গ্রহণে উৎসাহিত হবো। এসময়ে তিনি জানান প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের অন্তত ২০ ভাগ অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। এতে করে বিপুল অর্থের যোগান দিতে নিয়মিত পানির বিল পরিশোধের জন্য জনগণের সহায়তা কামনা করেন তিনি।