Sylhet Today 24 PRINT

গোয়াইনঘাটে রাস্তার কাজ শেষ না হতেই উঠছে কার্পেটিং, অনিয়মের অভিযোগ

মতিউর রাহমান, গোয়াইনঘাট  |  ০৩ জুন, ২০২৬

‎সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় একটি সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নমানের বিটুমিন ও সামগ্রী ব্যবহারের ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজ শেষ না হতেই সড়কের এমন বেহাল দশায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎উপজেলা প্রকৌশল অফিস (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় খাইরাই-বঙ্গবীর হাদারপার জিসি সড়কের বঙ্গবীর হতে হাদারপার বাজার পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

‎মেসার্স হাবিব এন্ড সন্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেলেও সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন রুস্তুমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। বর্তমানে কাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, বঙ্গবীর পয়েন্ট থেকে হাদারপার বাজারের পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে এখনই কার্পেটিং উঠে গিয়ে ইটের সুরকি বেরিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রুস্তুমপুর কলেজের সামনে থেকে পাতনী ভার্ড স্কুলের সামন এবং ডোমবাড়ী মোড়া থেকে পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।

‎স্থানীয় অটোরিকশা চালক রহিম উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, "কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের বিটুমিন ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ঢালাই দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই তা উঠে যাচ্ছে। সরকারের এতগুলো টাকা খরচ করে কোনো লাভ হলো না। বর্ষা শুরু হলে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।"

‎কাজের অনিয়ম অস্বীকার করে সাব-ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, "কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। বরং নির্ধারিত ১৫ মিলিমিটারের জায়গায় ১৭ মিলিমিটার কার্পেটিং করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি ছাড়াও গরুর গোবর, চেনা (মূত্র) এবং সড়কের ওপর ঝুলে থাকা গাছের ডালপালা থেকে পড়া পানির কারণে কার্পেটিংয়ের এই অবস্থা হয়েছে।" তবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামতের প্রতিশ্রুতি দেন।

‎স্থানীয় রুস্তুমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সড়কটি সংস্কারের নামে শুরু থেকেই নয়-ছয় হয়েছে। নিম্নমানের কাজের কারণে কাজ শেষ হওয়ার আগেই গর্ত তৈরি হচ্ছে। এই অনিয়মের জন্য ঠিকাদার এবং উপজেলা প্রকৌশল অফিস উভয়ই দায়ী। আমি মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছি।"

‎এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হাসিব আহমেদ মানবকণ্ঠকে বলেন, "ঠিকাদারের অবশ্যই গাফিলতি রয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে তাড়াহুড়ো করে কাজ করায় কার্পেটিং উঠে গেছে। আমরা এখনো কাজের ফাইনাল বিল দেইনি। ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

‎গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, "বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.