Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটকে পর্যটন ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: পর্যটন মন্ত্রী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি |  ১৯ জুন, ২০২৬

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি বলেছেন, সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সিলেটের পর্যটন খাত ও বিমানবন্দর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ।

মন্ত্রী বলেন, “ট্যুরিজম উন্নয়নের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করছি, যার অন্যতম অগ্রাধিকার সিলেট। আমরা চাই সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে। পর্যটন অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট সকল সুযোগ-সুবিধা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, সিলেটের বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ অচিরেই শুরু হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের অন্যান্য বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বৈচিত্র্য। ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভিন্নতা দেশকে বিভক্ত না করে বরং আরও সমৃদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল শুধু দেশের চায়ের রাজধানীই নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অঞ্চল। এখানে এবং এর আশপাশে প্রায় ২৬টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও জীবনধারা দেশের জাতীয় সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল’ কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য মিলনমেলা। এবারের উৎসবে ২৯টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের একটি অনন্য উপস্থাপনা।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম, এথনিক ট্যুরিজম এবং টেকসই পর্যটন বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে পর্যটনের সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, হারমনি ফেস্টিভ্যাল দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যকে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরবে এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মোল্লা, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুর রউফ, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো: মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো: মাইনুল হাসান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও পুলিশ সুপার মো: মনিরুল ইসলাম বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। শেষে মন্ত্রী ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং উৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আফরোজা খানম আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনধারা, শিল্পকলা ও লোকসংগীত বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এ সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও পর্যটন বিকাশে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কাজ করছে এবং দেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের পাশাপাশি তা পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলো শুধু ঐতিহ্য রক্ষাই নয়, পর্যটন সম্ভাবনা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আগামীতে এ ধরনের আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার পর্যটন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে এবং বাংলাদেশ পর্যটন খাতে একটি সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় দেশে পরিণত হবে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.