Sylhet Today 24 PRINT

সারওয়ারকে প্রত্যাহার : হেফাজত ‘মর্মাহত’, খেলাফত দেখছে ‘ষড়যন্ত্র’, জামায়াত বলছে ‘সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২১ জুন, ২০২৬

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করার তিন দিনের মাথায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসলামি দলগুলো।

এ ঘটনায় ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও দাবি তাদের। তারা বলছেন, দানবাক্স ও তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং মাজার এলাকায় মাদক বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ায় ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ বলেন, ‘ডিসি সারওয়ার আলম সিলেটের উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এরই মধ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করে দানের অর্থের স্বচ্ছতা আনতে চেয়েছিলেন। মাজারকেন্দ্রিক সুবিধাভোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে প্রত্যাহার করিয়েছেন। আমরা পুরো সিলেটবাসী এই ঘটনায় মর্মাহত। এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

ডিসি সারওয়ার আলমের এমন প্রত্যাহার কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, ‘সারওয়ার আলম একজন জনবান্ধব ডিসি। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ফান্ড গঠনসহ প্রবাসীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান ও তাদের জন্য আবাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সিলেট নগরীর ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলেন। আইনশৃঙ্খলা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন। সর্বশেষ হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ সিলগালা দানের টাকায় স্বচ্ছতা আনতে চেয়েছিলেন। এ ধরনের একজন জনবান্ধব ও জনপ্রিয় ডিসিকে হঠাৎ করে প্রত্যাহার করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে তারও সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

নুরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘অতীতে দলীয় বিবেচনায় ডিসি পোস্টিং দেওয়া হতো, এখনও তা দেখতে পাচ্ছি। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল সবার। পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রাধান্য দেওয়ার কথা ছিল। সিলেটের ডিসির ক্ষেত্রে আমরা অতীতের পুনরাবৃত্তি দেখলাম। এমন কাজ করা উচিত হয়নি সরকারের।’

এর পেছনে অপশক্তির হাত দেখছেন সিলেট মহানগর হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘এভাবে ডিসিকে প্রত্যাহার করায় আমরা মর্মাহত। এর পেছনে অপশক্তির হাত আছে। এর মধ্য দিয়ে অশুভশক্তির উত্থান হবে। তার মতো জনপ্রিয় ডিসিকে কোনও তদন্ত ছাড়া হঠাৎ করে প্রত্যাহার করা উচিত হয়নি সরকারের। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই আমরা।’

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী বলেন, ‘ডিসি সারওয়ার আলম কিছু ভালো কাজ করেছেন, এটা সত্য। তবে তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে মানুষ সন্তুষ্ট নন। কালেক্টরেট মার্কেট থেকে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করেছেন। মাজারে স্বচ্ছতা আনার বিষয়টি ছিল ডিসির ভালো সিদ্ধান্ত। কিন্তু এ নিয়ে তিনি প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেননি। এটি ইচ্ছেমাফিক সিদ্ধান্তের ফল।’

প্রসঙ্গত, রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করে। যদিও সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের কারণ কিংবা নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, এর উল্লেখ নেই।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.