Sylhet Today 24 PRINT

বিয়ের দাবিতে ১৮ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অবস্থান

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি |  ২২ জুন, ২০২৬

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বগাইয়া হাউওর গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ি ও তার চাচার ঘরে ১৮ দিন ধরে অবস্থান করছেন এক তরুণী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,‎ গত ৩ জুন বিকেল থেকে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের প্রেমিক কয়েছ মিয়া ও তার চাচা ইসলাম উদ্দিনের ঘরে ১৮ দিন ধরে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছেন তিনি।

তার অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন প্রেমিক। আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে ভাঙিয়ে দেন অন্যত্র হওয়া বিয়েও। এরপর অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুললেন সেই প্রেমিক। প্রতারণার শিকার ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী বিচার চেয়ে গত ১৮ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বগাইয়া উত্তর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে বিছনাকান্দি ইউনিয়নের বগাইয়া গ্রামের হাজী রফিক উদ্দিনের ছেলে কয়েছ মিয়া তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের দিনতারিখও ঠিক হয়। কিন্তু বিয়ে অনুষ্ঠান কমিউনিটি সেন্টারে হবে নাকি বাড়িতে হবে এ নিয়ে বিরোধ বাধলে কয়েছের পরিবার বিয়ে ভেঙে দেয়।

এরপর কয়েছ মোবাইলে যোগাযোগ করে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কও স্থাপন করেন এবং আপত্তিকর ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন। কিছুদিন পর হঠাৎ তরুণীর সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেন কয়েছ।

দীর্ঘ চেষ্টায়ও কয়েছের সাড়া না পেয়ে পরিবারের চাপে এক প্রবাসীর সঙ্গে মোবাইলে আকদ (বিয়ে) হয় তরুণীর। বিয়ের খবর পেয়ে কয়েছ ওই আপত্তিকর ভিডিও প্রবাসী স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন। এতে তরুণীর সেই বিয়েও ভেঙে যায়।

এই পরিস্থিতিতে গত ৩ জুন বিকেলে বিয়ের দাবিতে কয়েছের বাড়িতে অবস্থান নেন ওই তরুণী। অবস্থানের খবর পেয়ে পরদিন ৪ জুন অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন কয়েছ। তবুও বাড়ি ছাড়েননি তরুণী। বর্তমানে তিনি কয়েছের চাচা ইসলাম উদ্দিনের ঘরে অবস্থান করছেন।

তরুণী বলেন, কয়েছ তাঁর জীবন ধ্বংস করেছেন। স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি বাড়ি ছাড়বেন না। দাবি পূরণ না হলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

তরুণীর মা জানান, ছেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি মেটানো যাচ্ছে না।

রুস্তমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব জানান, গত ৪ জুন দুই পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের নিয়ে আলোচনায় বসা হয়েছিল। কয়েছ উপস্থিত না হওয়ায় ফোনে আলোচনা করে একটি তারিখ ঠিক করা হয়। কিন্তু পরদিনই জানা যায়, কয়েছ অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছেন। পরে ছেলের পরিবার রাজি না হওয়ায় বিষয়টি মেয়ের পক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য পাবলু মিয়া জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছিল, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। তরুণী বিয়ের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে কয়েছ বিয়ে করতে রাজি নন।

এ বিষয়ে কয়েছ মিয়া জানান, মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এটা সত্য। তবে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যরা সমাধান করবেন বলে তিনি দাবি করেন।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.