চুনারুঘাট প্রতিনিধি | ২৩ জুন, ২০২৬
পাহাড়ি ঢলের হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের সংযোগসড়কের সেতুর দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচসহ মাঝের অংশ ধ্বসে পড়েছে।
গত রোববার রাতের ঢলে সেতুটি ধ্বসে পড়ে।
ফলে দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই চা বাগানের প্রায় আট হাজার মানুষের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উৎপাদিত চা পাতা চা পরিবহনও ব্যাহত হওয়ায় দুই বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাগানের সড়কে সেতুটি নির্মাণ করে। লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের প্রায় ২ হাজার শ্রমিক পরিবারের আট হাজার মানুষ এ সেতু ব্যবহার করতেন। কাপাই চা বাগানের শিক্ষার্থীরা লস্করপুরে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে এই সেতু দিয়েই। কাপাই বাগানের উৎপাদিত চা পাতাও লস্করপুর কারখানায় নেওয়া হয় এ পথেই।
পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াহেদ আলী জানান, কাপাই চা বাগানে প্রায় ৫০০ শ্রমিক ও ২ হাজার বাসিন্দা এবং লস্করপুর চা বাগানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শ্রমিকসহ প্রায় ৬ হাজার মানুষের বসবাস। সেতু ধ্বসে দুই বাগানের প্রায় ৮ হাজার মানুষই এখন ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃষ্টি হলেই সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকার পানি সেতুর নিচের ছড়া দিয়ে নেমে আসে। কয়েক বছরে ছড়াটি ছোট নদীর রূপ নেওয়ায় সেতুটি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কিন্তু মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় রোববার রাতের ঢলে দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচসহ মাঝের অংশ ধসে যায়। এতে চা পাতা পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমিক ও তাদের পরিবার। কাপাই চা বাগানের শ্রমিকরা উপজেলা সদরেও যেতে পারছেন না।
লস্করপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মোঃ সাজ্জাদুল হক বলেন, কাপাই বাগানের চা পাতা এখন কয়েকটি বাগান ঘুরে মহাসড়ক হয়ে কারখানায় আনতে হচ্ছে। এতে সময় ও ব্যয় দুটিই বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের চলাচলেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, সেতুর মাঝের পিলারও ভেঙে পড়েছে। তাই এটি মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব নয়। সেখানে নতুন সেতু নির্মাণই একমাত্র সমাধান।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুনারুঘাট উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, চা বাগান কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সদর দপ্তরে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।