নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ জুন, ২০২৬
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশুকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি অবগত করা হয়।
একই পত্রে চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশুকে কেন চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না, সেই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে এই শোকজের উত্তর জানাতে তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং দেশের বাইরে অবস্থান করায় আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশুর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি তিনি কানাডা থেকে দেশে ফিরলেও তার দায়িত্ব পালন নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়।
এর আগে সিলেটের জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যানের বিনা অনুমতিতে বিদেশ অবস্থানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পত্র প্রেরণ করেছিলেন। ওই পত্রে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রদত্ত মতামতের ভিত্তিতে ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯’-এর ৩৪(৪)(জ) ধারা মোতাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এই আইন অনুযায়ী, কোনো চেয়ারম্যান বা সদস্যের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত অথবা চূড়ান্তভাবে অপসারণের বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিয়ানীবাজারের দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করল মন্ত্রণালয়। এর আগে বরখাস্ত হওয়া মাথিউরা ইউপি চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন এবং আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশু বিগত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে জুলাইকেন্দ্রিক একাধিক মামলা রয়েছে, তবে আহবাবুর রহমান খান শিশু প্রত্যেকটি মামলায় বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। আহবাবুর রহমান খান শিশু মামলা প্রসঙ্গে জানান, মামলার বাদী আদালতে জানিয়েছেন তিনি বিবাদীকে চেনেন না।
বরখাস্তের আদেশ প্রসঙ্গে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আহবাবুর রহমান খান শিশু। বিনা অনুমতিতে বিদেশ ভ্রমণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমার একমাত্র মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আমাকে খুব অল্পদিনের মধ্যে বিদেশ যেতে হয়েছে। বিদেশ যাওয়ার আগে আমি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স চেয়েছিলাম, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেটা পাইনি। মেয়ের অভিভাবক হিসেবে আমাকে কানাডায় যেতে হয়েছে এবং বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে আমি দেশে ফিরে আসি।”
তিনি আরও বলেন, “অনুমতি নিতে না পারা আমার ব্যর্থতা ছিল। সময়ও ছিল খুব অল্প। ফলে অনেকটা বাধ্য হতে হয়েছে আমাকে। তবে আমি ফিরে এসে তৎক্ষণাৎ অনুমতি না নিয়ে বিদেশ যাওয়ার কারণ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। অনুরোধ করেছি বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখতে।”
স্থানীয় পরিষদের রেজুলেশন ও নাগরিকসেবায় ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি প্রশাসনের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে পারিনি— এটা সত্য; তবে বিদেশ যাওয়ার আগে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে সবার মতামত ও সমর্থন নিয়েছিলাম। ইউনিয়নবাসীর সেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিকল্প ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছিল। পরিষদের সকল সদস্যই আমার এই বিদেশ যাত্রার বিষয়ে সম্যক অবহিত ছিলেন এবং পারিবারিক সংগত কারণে এটিকে সমর্থন করেছেন, যার আনুষ্ঠানিক রেজুলেশনও সংরক্ষিত আছে। এছাড়া বিয়ের পারিবারিক আয়োজন শেষ হওয়া মাত্রই আমি দেশে ফিরে আসি এবং নাগরিকসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে বিষয়টি সবাইকে অবহিত করি।”
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশুকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ১০ কার্যদিবসের সময় দিয়ে শোকজ করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এই আদেশ চলাকালীন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দাপ্তরিক ও রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. মনিরুজ্জামান মনির। তিনি একাধিকবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।