সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৮ জুন, ২০২৬
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ও নিরাপত্তা টহল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১৫১ একর জমি অধিগ্রহণ করতে নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ। নোটিশের পর থেকে একে একে কেটে গেছে ৫ বছরের অধিক সময়। কিন্তু এখনো জমির ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে পাননি জমির মালিকেরা।
এ অবস্থায় রোববার (২৮জুন) বেলা ১১টায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিলেট কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত ভূমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ বর্তমান বাজার মূল্যে দ্রুত প্রাপ্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভূমির মালিকরা।
বিমানবন্দর অধিগ্রহণ বাস্তবায়ন কমিটি সিলেটের আয়োজনে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন সিলেট সদর উপজেলার ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলওয়ার হোসেন।
মো.আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে ও বুলবুল মিয়ার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিতি ছিলেন নাজিম উদ্দিন ইমরান, বিমানবন্দর অধিগ্রহণ বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা মন্তাজ আলী, ফিরোজ আলী, রাজিব হোসেন লিটু, আব্দুল হাকিম,শাহনুর আহমদ, শায়েস্তা মিয়া, রাজন আহমদ রাজু, লোকমান আহমদ, জামাল আহমদ, সোহেল মিয়া, হাজী সুনু মিয়া, সাজু মিয়া ও আব্দুল হক।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আজ অত্যন্ত ক্ষোভ এবং গভীর দুঃখের সাথে আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। আশা দিতে দিতে কর্তৃপক্ষ আজ আমাদের ‘জিন্দা লাশ’ বানিয়ে ফেলেছে। জমি অধিগ্রহণের নামে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে আমাদের সাথে যে প্রহসন চলছে, তা আর সহ্য করার মতো নয়। ২০২০ সালে ৪ ধারা নোটিশ জারির পর থেকে আমরা জমির মালিকরা এক প্রকার গৃহবন্দী জীবন যাপন করছি। আমরা আমাদের নিজেদের জমিতে কোনো উন্নয়ন করতে পারছি না, বিক্রি করতে পারছি না, আবার ন্যায্য পাওনাও পাচ্ছি না। এর মধ্যে ২০২৩ সালের শিলাবৃষ্টিতে আমাদের ঘরবাড়িগুলো ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। আজ আমাদের বহু পরিবার মাথার ওপর ছাদ হারিয়ে ত্রিপাল টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ এই দুর্যোগেও প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই।
বক্তারা বলেন, কর্তৃপক্ষের অফিসে যেতে যেতে আমরা আজ ক্লান্ত ও নিঃস্ব। সিলেটের বিগত দুইজন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আমরা শুধু মিথ্যা আশ্বাস ছাড়া বাস্তবসম্মত কিছুই পাইনি। সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এক জায়গার ১১ বার সংশোধনী দিয়েছে, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। যে নামমাত্র ক্ষতিপূরণের কথা বলা হচ্ছে, তা দিয়ে বর্তমান বাজারে আমাদের পক্ষে নতুন করে কিছুই করা সম্ভব নয়। আমাদের স্পষ্ট দাবি—বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী আমাদের জায়গার সঠিক মূল্য দিতে হবে।
তারা বলেন, গত ২১ মে আমরা আমাদের দাবি জানিয়ে সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। আমরা বেঁধে দেওয়া ৪৫ দিনের আলটিমেটাম শেষ হবে ৪জুলাই। দিন বাকি আছে ৮দিন। আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই, এই ৮ দিনের মধ্যে যদি আমাদের সমস্যার কোনো সুষ্ঠু ও চূড়ান্ত সমাধান না হয়, তবে আমাদের আর ঘরে ফিরে যাওয়ার পথ থাকবে না। নিজেদের অধিকার আদায়ের স্বার্থে আমরা বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিতে বাধ্য হব। আমরা আর কোনো মিথ্যা আশ্বাস চাই না, অনতিবিলম্বে আমাদের জমির মূল্য বুঝিয়ে দেওয়া হোক আর না হয় এই অধিগ্রহণ বাতিল করে আমাদের বাঁচতে দেন।