নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ জুলাই, ২০২৬
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সিলেট বিভাগের সড়কের উন্নয়ন, নতুন রাস্তা নির্মাণ, প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। সাময়িক জলাবদ্ধতা ও সেচের পানির অভাবে যেসব জমি অনাবাদি থাকে, সেগুলোকে চাষাবাদের আওতায় আনতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সেই সাথে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ, কৃষি, সেচ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সিলেট সদরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ এবং রাজারগাঁও জামিয়ুল উলুম মাদ্রাসা বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চলমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই হাজার উপকারভোগীর প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। এছাড়া প্রায় ৭০০ জনকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজারগাঁও জামেয়া মাদ্রাসা ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে তিনতলা বিশিষ্ট এ ভবনটি মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বন্যা বা অন্য যেকোনো দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভবনটিতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কক্ষ, বাথরুম এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা রাখা হয়েছে, যাতে দুর্যোগকালে নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা যায়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, খাল খনন কর্মসূচিকে আরও জোরদার করে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে সিলেটের কৃষিজমিতে সারা বছর চাষাবাদ সম্ভব হয়। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করবে।
সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
১৫নং ওয়ার্ডে মতবিনিময় : সিলেট মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, প্রাকৃতিক খাল উদ্ধার এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট দূরীকরণে একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী এবং সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার সন্ধ্যায় যতপুরস্থ এলাকায় মহানগরীর ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপি ও নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ওয়ার্ড বিএনপি ও নাগরিক কমিটির মতবিনিময় সভায় বক্তারা নগরীর অবকাঠামোগত নানা সংকট ও তা থেকে উত্তরণের উপায় তুলে ধরেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে বিস্তারিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নগরীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক খালগুলোকে পুনরায় খনন ও সচল করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখার জন্য নগরীর উত্তর ও অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় নতুন জলাধার বা রিটেনশন পন্ড তৈরি এবং দক্ষিণ সুরমাসহ প্রয়োজনীয় এলাকায় পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে নতুন কৃত্রিম খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে মহানগরীর ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপি, পাড়া কমিটি, সেন্টার কমিটি ও বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কোতোয়ালী থানা বিএনপির সদস্য সচিব শুয়াইব আহমদ শুয়েবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর রাসেলের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)’র চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসনের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, তোফাজ্জাল হোসেন বেলাল, অলিউর রহমান চৌধুরী সুহেল, মালেক বক্স, মতিউর রহমান আফজল, ইফতেখার আহমদ পাভেল, শাহিন আহমদ।
উক্ত সভায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আব্দুল মুকিত চৌধুরী, কাবুল হাজি, একরামুল মজিদ চৌধুরী, নুরুজ্জামান টিপু, ফজলুর রহমান, চন্দন ভৌমিক, ময়ল পুরকাস্থ প্রমুখ। সভায় বক্তারা নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।