নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ জুলাই, ২০২৬
একে তো তীব্র গরম, তার মধ্যে প্রচন্ড লোডশেডিং। দুয়ে মিলে রীতিমত ওষ্ঠাগত প্রাণ।
শনিবার সিলেটে ছিলো রেকর্ড তাপমাত্রা। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, শনিবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন গরমের মধ্যে শনিবার অন্যান্য দিনের তুলনায় লোডশেডিং আরও বেড়েছে। বিশেষত সন্ধ্যার পর লোডশেডিং মারাত্মক আকার ধারণ করে। এতে নাভিশ্বাস ওঠে নগরবাসীর।
শনিবার সকাল থেকে লোডশেডিং হয়েছে সিলেটে। অনেক স্থানে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিলো না। সন্ধ্যার পর নগরের ব্যস্ততম এলাকা জিন্দাবাজারে দীর্ঘ সময় টানা বিদ্যুৎহীন ছিলো। এতে স্থবির হয়ে পড়ে এই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য।
নগরের জিন্দাবাজার এলাকার পোষাক ব্যবসায়ী কয়েস আহমদ বলেন, সারাদিন গরমের কারণে কোন ক্রেতা ছিলো না। সন্ধ্যার পর গরম কিছুটা কমলেও লোডশেডিংয়ের কারণে পুরো অন্ধকারে ছিলো এলাকা।
তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসার একেবারে কাহিল অবস্থা। দিনের পর দিন ধরে এমনটি চলছে।
এদিকে, বিকেল তিনটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে লোডশেডিংয়ের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে তিনটার পরে বিউবোর সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ ও ২-এর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় বিকেল তিনটা থেকে সাময়িকভাবে লোডশেডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেলে লোডশেডিং প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এমন কাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। বিউবোর ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে বদরুল আলম নামে একজন লিখেছেন, ‘আপনারা ঘোষণা দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিন। আমরাও সবকিছু বাদ দিয়ে আদি মানুষের মত জংগলে চলে যাব।’
শনিবার সকাল থেকে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন শ্রমজীবী মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন বিদ্যুতের গড় চাহিদা ১৮০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট। শনিবার বিভাগে সরবরাহ করা হয়েছে প্রায় ১৬০ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম। এর মধ্যে শুধু সিলেট জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে ১২০ মেগাওয়াট।
বিউবোর সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, গত দুই-তিন দিন লোডশেডিং ছিল না। তবে শনিবার থেকে আবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে, কারণ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি কবে হবে, সেটি নির্ভর করছে জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ কেন্দ্রের (এনএলডিসি) ওপর। তারা যতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে, সেই পরিমাণ বিদ্যুৎই বিভিন্ন এলাকায় বণ্টন করা হচ্ছে।
এদিকে তীব্র গরমের কারণে জনজীবনে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমও অব্যাহত থাকতে পারে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার বলেন, শনিবার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ।
তিনি আরও বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।