নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ জুলাই, ২০২৬
(বাঁ থেকে) আব্দুল্লাহ আল মামুন, মু. রেজা হাসান, মো. সারওয়ার আলম ও পিংকি সাহা
মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে সিলেটে ৪ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে ৪ জনকে পদায়ন করা হয়েছে। সবশেষ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ২৮ জুন কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সিলেটে যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ফিরে যেতে হয় রেজা হাসানকে।
পদায়ন হওয়ার ১০ দিনেও তিনি সিলেটে যোগদান করতে পারেননি। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে সিলেটে যোগদানের আগেই জেলা প্রশাসক পদ হারালেন রেজা হাসান। এদিকে কুমিল্লায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত রোজী আকতার গত বুধবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
তারও আগে ২১ জুন সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর থেকে সিলেটের জেলা প্রশােকের দায়িত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সিলেটে যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ফিরে যেতে হয় রেজা হাসানকে।
একাধিক প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, ওই দিনই রেজা হাসানকে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেখা যায়।
প্রশাসনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের দাবি, সিলেটের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর আপত্তির কারণেই শেষ মুহূর্তে রেজা হাসানের যোগদান আটকে যায়।
নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে গত ২১ জুন প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।
তবে জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের কারণ কিংবা নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, তখন জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল না। পরে ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে জানায়। ওই প্রজ্ঞাপন জারির পর রেজা হাসান কুমিল্লার ডিসির দায়িত্ব ছাড়লেও সিলেটে আর যোগ দেননি।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক একটি সূত্র দাবি করেছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে নানা ঘটনায় আলোচিত ছিলেন সারওয়ার আলম। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে জেলা প্রশাসকের কিছু উদ্যোগ আলোচিত-সমালোচিত হয়।
গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।
এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ রকম আলোচনা-সমালোচনা চলাকালেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। যদিও সরকারের একাধিক মন্ত্রী জেলা প্রশাসক বদলির ঘটনাকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের দীর্ঘদিনের চেনা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডিসি সারওয়ার আলম। তার এই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে যেমন প্রশংসা ও নানামুখী আলোচনার ঝড় ওঠে, তেমনি তৈরি হয় বিতর্কও। এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। মাজারের দানবাক্সে হাত দেওয়ার পরপরই ডিসির এমন আকস্মিক বদলি হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
প্রত্যাহারের আদেশ জারির একদিন পরই সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। নতুন জেলা প্রশাসক যোগদান না করা পর্যন্ত এডিএম পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।