Sylhet Today 24 PRINT

শাহজালাল মাজারে ৪৭ লাখ টাকার সাথে আরও যা যা মিলল

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১১ জুলাই, ২০২৬

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে দ্বিতীয় দফায় গত ১৮ দিনে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। তবে টাকার সাথে বৈদেশিক মুদ্রা, গবাদিপশুসহ আরও অনেক কিছুই পাওয়া গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সকাল থেকে দানবাক্স খুলে অর্থ ও সম্পদ গণনা করা হয়। এনিয়ে মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে ২য় বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হলো।

গণনা শেষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, দানবাক্স থেকে বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রৌপ্যও পাওয়া যায়।

গণনায় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের ১৩৫ রিয়াল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, কাতারের ২২ দিরহাম, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত, হংকংয়ের ২০ ডলার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০ ইউরো, ওমানের ১ দশমিক ৪৫০ দিনার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়া, পাকিস্তানের ৬০ রুপি এবং সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার।

এছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণ সদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রৌপ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া একটি গরু, ছাগল ৬৫টি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।

তিনি বলেন, গণনা করা সব অর্থ জেলা প্রশাসকের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।

সিসিক প্রশাসক বলেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার, দরগাহ মসজিদ ও মাদ্রাসার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির পরবর্তী সভা আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এক মাসের মধ্যে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় একটা নীতিমালা চূড়ান্ত করব।

সবশেষ গণনার দিন থেকে এ পর্যন্ত ১৮ দিনের দান এ দানবাক্সে জমা হয়েছিল। গণনা কার্যক্রমে সিলেট উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় মাত্র ৪ দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছিল। প্রথমবার ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য বেশি থাকলেও, এবার ১৮ দিনের মাথায় সংগৃহীত টাকার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে ১০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট নোটের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

এরআগে গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত বিশেষ কমিটির অধীনে এই অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.