বিশ্বনাথ প্রতিনিধি | ১৩ জুলাই, ২০২৬
সিলেটের বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়ক সংস্কারের ২৩ কোটি টাকা মাত্র আড়াই বছরেই মিশে গেছে মাটিতে! টেকসই কাজের নামে দীর্ঘ চার বছর জনভোগান্তির মধ্য দিয়ে রাস্তার পূনঃসংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়া বা হস্তান্তরের মাত্র আড়াই বছরে রাস্তা ফের ভেঙে বেহাল দশা।
এই আড়াই বছরের ভেতরে সড়কে ভাঙন ধরলে ফের গর্ত ভরাটে আরও ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে রিপিয়ারিং কাজ করা হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শুধু সরকারের টাকা ব্যয় দেখিয়ে এই রাস্তাটিকে লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করা হয়েছে। এই ৪০ লাখ টাকার সংস্কারের মাত্র ৫ মাসের ভেতরে সেই গর্ত গুলোতেও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে ওই সড়কের মাত্র ১৩ কিলোমিটার সংস্কার কাজে দু’দফায় ২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা জলে ফেলা হয়।
জানা যায়, সিলেট থেকে বিশ্বনাথ হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা দিয়ে সরাসরি সুনামগঞ্জের সাথে ষংযোগ এই জনবহুল সড়কটি। গত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্বনাথ সদর থেকে মিয়ার বাজারের পশ্চিমে জগন্নাথপুর সীমানা পর্যন্ত ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ কিলোমিটার সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। সড়কটি সংস্কার কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। দীর্ঘ ৪ বছর সড়কটি সংস্কারের সময় অনেক ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যানবাহনে জনসাধারণ চলাচল করেছেন।
তখন উপজেলা প্রকৌশলী বলেছেন যে, দীর্ঘ সময় ব্যয় না হলে কাজের গুনগত মান ভালো হবেনা। তাই সময় একটু বেশী ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু এই দীর্ঘ ৪ বছরে সম্পন্ন করা কাজ মাত্র আড়াই বছরের ভেতরে ফের বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে যানবাহন চলাচলে প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এদিকে সড়কে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এসব গর্ত ভরাটের কাজ করা হয়। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু ৫টি মাস যেতে না যেতেই এসব গর্তে ফের ভাঙন ধরে দীর্ঘ হচ্ছে গর্তের প্রসস্থ। তাই জনমনে কাজের গুণগত মান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন যে, মাত্র ১৩ কিলোমিটার সড়কে ২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করা মানেই সরকারের টাকা আত্মসাতের একটি পন্তা। কাজের প্রতি দায়িত্বশীলদের চরম অবহেলা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। এছাড়াও এই লুটপাটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জরিত রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের সাবেক তিন বারের চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক বলেন, সরকার সংস্কারের জন্য আন্তরিক ভাবে বরাদ্দ দেয়। কিন্তু এই বরাদ্দ সঠিকভাবে কাজে না লাগায় টেকসই হয়না। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যে কাজে লাভবান হবেন সেখানের প্রকল্প তৈরী করে সরকারের কাছে আবেদন করেন। এভাবেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঠিকাদারের সাথে আতাত করে লুটপাটে জড়িয়ে পড়েছেন।
জানতে চাইলে সাবে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাঈদ বলেন, আমি সেখান থেকে সরে আসার পর এবিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই।
এবিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ মামুন খান বলেন, কম সময়ের ভেতরে এই সড়কের অবস্থা বেহাল হওয়ার কথা নয়। তিনি ২/১ দিনের ভেতরে সড়কটি ভিজিট করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। আর উপজেলা প্রকৌশলী নিয়োগের বিষয়ে স্থানীয় এমপি’র সমন্বয়ে তিনি চেষ্টা করছেন।