Sylhet Today 24 PRINT

হবিগঞ্জে পানি কমলেও ভোগান্তি কমেনি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি |  ১৩ জুলাই, ২০২৬

হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। এর মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।

পানি কমলেও জলাবদ্ধতার কারণে বাড়িঘরে কাঁদা ভরে আছে। রাস্তাঘাটেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জলাবদ্ধতার শিকার মানুষজন বলেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। পরে একে একে লস্করপুর, লামাতাসি ও পইল ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। দুর্ভোগে পড়েন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুর রহমান বলেন, “বর্তমানে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে ভারি বৃষ্টিপাত না হলে আপাতত পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।”

তিনি বলেন, “পাশাপাশি বাঁধে ভাঙনের ফলে যে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছিল, সেগুলোও আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে। বাঁধের ভাঙা অংশে আজ থেকে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। শিগগির তা শেষ করা হবে।”

এদিকে, বন্যার পানি কমার পর রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘেরে ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন।

সরজমিনে দেখা যায়, ফসলি জমির ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। সবজি ক্ষেতের চারা এলোমেলো হয়ে রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রহিম মিয়া বলেন, “বন্যার পানিতে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। ধানের জমি ও সবজি ক্ষেতের অবশিষ্ট আর কিছুই নেই। সরকার আমাদের সহযোগিতা না করলে আমাদের চলাই দায়।”

কারিমুল মিয়া বলেন, “বন্যার পানিতে আমাদের ঘরে-বাইরে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি বলে শেষ করা যাবে না।”

রহিমা বেগম নামে এক নারী বলেন, “চার দিন ধরে ঘরে রান্নাবান্না নেই। তিন দিন আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলাম। এখন বাড়িতে এসেও চুলায় আগুন জ্বালাতে পারছি না। আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করি।”

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.