নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
বাহুবলে চার শিশু হত্যার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে পুলিশের উপর ভীষণ চটেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল চৌধুরী কেয়া। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাহুবলের সান্দ্রাটিকি গ্রামে যান তিনি। এসময় এলাকাবাসী ও শিশুদের স্বজনদের সমবেদনা জানানোর সময় পুলিশের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ শুনেন তিনি।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ শুনেই বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেনের উপর ভীষণ চটে যান কেয়া চৌধুরী।
এসময় তিনি ওসিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘যদি পুলিশের কোনো গাফিলতির থাকে, এটার শেষ কিন্তু আমি দেখবো’। এসময় আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা। তখন কেয়া চৌধুরী আরোও রাগান্বিত হয়ে বলেন ‘তারা যখন নিখোঁজ হলো, তখন প্রশাসন কি করেছে’?
সিলেটে শিশু রাজন হত্যার উদাহরণ টেনে কেয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে, সেখানে আপনারা কেন আমাদের জানলেন না।
‘যেখানে আপনারা জানলেন বাচ্চাগুলা নিখোঁজ, আমাদেরকেও তো জানাইতে পারতেন, আমরাও তো জানিনা’
প্রত্যুত্তরে ওসি বলেন তিনি ছুটিতে ছিলেন, তিনি জানতেন না।
তখন ক্রোধ চেপে কেয়া চৌধুরী বলেন ‘আপনি না জানলে আপনার অফিসার আপনাকে ইনফর্ম করবেনা? আপনিতো এখানকার ওসি’!
তিনি বলেন, আপনাদের কারণে সারাদেশে আজ আমাদের দুর্নাম হচ্ছে। মুখ দেখাতে পারছি না।
এসময় গ্রামবাসী ও বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংসদ অধিবেশন থেকে বৃহস্পতিবার সরাসরি বাহুবলে যান কেয়া চৌধুরী।
এরপর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শিশু রাজন ও রাকিব হত্যার বিচারের মতো এই চার শিশু হত্যার বিচারও দ্রুত সম্পন্ন হবে। সরকার এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
গত বুধবার বাহুবলের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের একটি হাওরে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরআগে গত শুক্রবার খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের মাঠ থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো জাকারিয়া শুভ, মনির মিয়া, তাজেল মিয়া ও ইসমাইল মিয়া।
নিখোঁজের পরদিন বাহুবল থানায় জিডি করা হলেও পুলিশ শিশুদের উদ্ধারে কোনো তৎপরতা দেখায়নি বলে অভিযোগ নিহতদের স্বজনদের।
তবে ঘটনার পর দু’জনকে আটক করে আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।