নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ জুলাই, ২০২৬
সিলেটে রাস্তার মধ্যে মারামারিতে জড়িয়েছেন এক পুলিশ দম্পতি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর মুন্সীপাড়া রোড ও মিরের ময়দান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জেলা পুলিশ ও কোতোয়ালি মডেল থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যান।
জানা গেছে, মারামারিতে জড়ানো দুই পুলিশ কনস্টেবল লিজা ও নাদিম স্বামী-স্ত্রী এবং দুজনই সিলেট জেলা পুলিশে কর্মরত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুজনের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও নিবৃত্ত করতে পারেননি।
তারা জানান, দুই পুলিশ সদস্য রাস্তার মাঝখানে উচ্চস্বরে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এসে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে সিলেট বেতার কেন্দ্রের গেটসংলগ্ন এলাকায় আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় নারী কনস্টেবল সড়কের ওপর লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে সড়ক থেকে সরিয়ে একটি হাসপাতালের সামনে নিয়ে যান। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
খবর পেয়ে রাত পৌনে ১টার দিকে সিলেট জেলা পুলিশ ও কোতোয়ালি মডেল থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাদের পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সামান্য আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই মিঠুন বলেন, সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুই কনস্টেবলকে পাই। পরে তাদের সিলেট জেলা পুলিশের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ তাদের পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায়।
সিলেট জেলা পুলিশের এএসআই বিজয় পাশী বলেন, ঘটনাটি মূলত স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটেছে। তাদের নিয়ে ঊর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তারা সমঝোতার চেষ্টা করেছেন। নারী কনস্টেবলের অভিযোগ, তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং এ বিষয়ে তার কাছে কিছু ছবি-ভিডিও রয়েছে। তবে পুরুষ কনস্টেবল অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
তিনি বলেন, প্রকাশ্যে রাস্তায় মারামারি করা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এতে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। একসঙ্গে সংসার করা সম্ভব না হলে নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করা উচিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগামীকাল তাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তারা নিবেন।