Sylhet Today 24 PRINT

‘গরিবের হোটেল’ মাহিমা রেস্টুরেন্টে প্রতি শুক্রবারে ৩শ অসহায় মানুষ পাচ্ছেন বিনামূল্যে খাবার

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর |  ২৪ জুলাই, ২০২৬

মাহিমা রেস্টুরেন্টে। কেউ ডাকেন গরিবের হোটেল। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটে অবস্থিত হোটেলটিতে প্রতি শুক্রবার গড়ে ৩শ অসহায়, গরিব, মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে খাবার খাওয়ান হোটেল মালিক। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী মেহমানখানা পরিচালনা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়া।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইকড়ছই গ্রামের বাসিন্দা মৃত জালাল আহমদের ছেলে মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়া। ২০১৭ সালের একটি দৃশ্য তার জীবনভাবনা বদলে দেয়। একটি রেস্টুরেন্ট থেকে একজন অসহায় ব্যক্তিকে খাবার না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা দেখে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হন। তখনই মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন, নিজের সামর্থ্য হলে ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।

শুরুতে প্রতি শুক্রবার মাত্র ৫০ জন মানুষকে খাওয়ানোর লক্ষ্য থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। শুধু শুক্রবারই নয়, সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতেও ৫ থেকে ১০ জন অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে রেস্টুরেন্টের কর্মীদের।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরজমিনে মাহিমা রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই হোটেলের বাবুর্চি ও কর্মচারীদের ব্যস্ততা। জুমার নামাজ শেষ হতেই রেস্টুরেন্টে আসতে শুরু করেন রিকশাচালক, ভিক্ষুক, দিনমজুর এবং স্থানীয় মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীরা। কর্মচারীরা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও আনন্দের সাথে সবার টেবিলে খাবার পৌঁছে দেন।

খাবার খেতে আসা রিকশাচালক কামরুল ইসলাম ও সেলিম হোসেন জানান, অন্য যেকোনো রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেতে অন্তত ১০০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু এখানে প্রতি শুক্রবারে কোনো টাকা ছাড়াই তারা মানসম্মত খাবার খেতে পারেন। মাদরাসার কয়েকজন এতিম শিক্ষার্থী জানায়, শুক্রবার এলেই তারা এই রেস্টুরেন্টে ভালো খাবারের আশায় আসে। কোনো সপ্তাহে গরুর মাংস, কোনো সপ্তাহে মুরগির মাংস কিংবা মাছ-ডাল দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হয়।

এ উদ্যোগের নেপথ্য কারণ জানতে চাইলে মাহিমা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমি লোকদেখানোর জন্য কিছু করি না। আমার নবী-রাসূলের নামে আমি যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি পাই তাই গরিব, অসহায়, ফকিরদের জন্য এই খাবারের ব্যবস্থা করা। এই কাজে আমি কারো সহযোগিতা নিই না। আল্লাহ আমাকে যতদিন তৌফিক দেন আমি ততদিন এভাবেই মানুষকে খাবার দিয়ে যাবে। আমার হোটেলে যদি ৫শ মানুষও আসে আমি তাদের খাওয়াব ইনশাআল্লাহ। হোটেলে যারা খেতে আসছেন তাদের কেউ রিকশাচালক, কেউ ভিক্ষুক কেউবা আবার দিনমজুর। এছাড়াও আশপাশের মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকেও আসছে। একটু ভালো খাবার খাওয়ার আশায় প্রতি শুক্রবার তাদের ছুটে আসা।


রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি শরিফ আহমেদ, কর্মচারী সুজন ও বিশু জানান, নিজেরা আর্থিক সাহায্য করতে না পারলেও এই মহৎ কাজে বাড়তি শারীরিক পরিশ্রম ও সেবা দিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মকবুল হোসেন ভূঁইয়ার এই মানবিক উদ্যোগটি পুরো উপজেলায় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সমাজে অনেক বিত্তবান মানুষ থাকা সত্ত্বেও অনেকে এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসেন না। তাঁর এই কাজ দেখে সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ও বিত্তবান ব্যক্তিরাও অসহায় মানুষের সেবায় এগিয়ে আসবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.