Sylhet Today 24 PRINT

নতুন কারিকুলামে গুরুত্ব পাবে ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধ: সিলেটে ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৬ জুলাই, ২০২৬

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থার অনুকরণ নয়, দেশের বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নতুন প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে সরকার। এতে ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে এবং এর চূড়ান্ত ফলাফল ইতিবাচক হবে বলে সরকার আশাবাদী।

রবিবার বিকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা-মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের নতুন নীতিমালার খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত হবে। এরপর শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

গানের শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে ‘বিভ্রান্তি’ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গানের শিক্ষক দেওয়া হবে না- এমন ধারণা সঠিক নয়। খেলাধুলা, সংস্কৃতি বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে রাজস্ব খাতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নেই। নীতিমালা তৈরি হচ্ছে, নিযুক্ত শিক্ষক অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ব্যবস্থায় এসব শিক্ষক নিয়োগ হতে পারে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পের সফলতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এটি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে চালু করা হবে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ চলছে।

ববি হাজ্জাজ আরও জানান, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমও নতুন নীতিমালার আওতায় আনা হচ্ছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ডিপিই-র নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন।

সিলেট বিভাগে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তার সংকট নিরসনে প্রয়োজনভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে মিড-ডে মিল কর্মসূচি পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। এর বাস্তবায়নে পাওয়া ত্রুটি সংশোধনে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কারখানা পরিদর্শন, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ ও বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে কর্মসূচিটি সারাদেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।


২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও নীতিমালার আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বিদ্যালয়ের কারিকুলাম, শিক্ষকের মান, অবকাঠামো ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। একইসঙ্গে বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখওয়াত এরশেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরও অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.