শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ০৩ আগস্ট, ২০২৬
"বই পড়ি, মন গড়ি"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় চলছে ‘শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব ২০২৬’। ২১ জুলাই শুরু হওয়া এ উৎসবের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও কাব্যের জগতে ছড়িয়ে দিতে সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২ আগস্ট) তিন ধাপে আয়োজিত এই বইপড়া উৎসবের প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্বে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে উপজেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জিয়াউর রহমান ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজনগর জে.এস.এস.আর মাদ্রাসা, শ্রীমঙ্গল আনোয়ারুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা, সেন্ট মার্থাস হাই স্কুল এবং ভূনবীর দশরথ স্কুল এন্ড কলেজে সরাসরি উপস্থিত হন। তিনি আলাদাভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং আনন্দের জন্য ও নিজেকে তথা বিশ্বকে জানার জন্য পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নিয়মিত অন্যান্য বই পড়ার আহ্বান জানান।
উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশে ইউএনও মো: জিয়াউর রহমান বলেন, “আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গলের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে বইপড়ার আনন্দ ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নিতে চাই। জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের বিশ্বাস, বই পড়ার মাধ্যমে আমাদের আগামী প্রজন্ম নিজেদের আরও সমৃদ্ধ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বইপড়া উৎসবের সমন্বয়ক ও শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের পরিচালক দেবাশীষ দাশ এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল।
উৎসব আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্বে শ্রেণিওয়ারী নির্ধারিত ১৪টি বই বর্তমানে উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী একযোগে পড়ছে।
মুকুল পর্ব (প্রথম ধাপ): আগামী ১৭ আগস্ট নির্ধারিত বইগুলোর ওপর শ্রেণীওয়ারী নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথম পর্বের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শেষে ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হবে।
ফুল পর্ব (দ্বিতীয় ধাপ): প্রথম ধাপে নির্বাচিতরা দ্বিতীয় পর্ব ‘ফুল-এর জন্য নির্ধারিত নতুন বই পড়বে এবং স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেবে। এখান থেকে প্রতি প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রেণির সেরা ৩ জন স্থান পাবে চূড়ান্ত ধাপে।
ফল পর্ব (চূড়ান্ত ধাপ): চূড়ান্ত ‘ফল পর্বে এসে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আবার নতুন বই পড়ে উপজেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেবে। এই ধাপ থেকে পুরো উপজেলার শ্রেণিওয়ারি সেরা ১০ জনকে বিজয়ী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।
চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছানো প্রতিটি শিক্ষার্থী তিনটি ভিন্ন ধাপে অন্তত ৩টি করে নতুন বই পড়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া এ বছর সর্বসাধারণের জন্য যুক্ত করা হয়েছে একটি 'উন্মুক্ত বিভাগ', যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরের যেকোনো বয়সী মানুষ রেজিস্ট্রেশন করে এ উৎসবে অংশ নিতে পারছেন।
স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি তরুণ প্রজন্মের অতি-নির্ভরতার এই সময়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বইপড়ায় নতুন উদ্দীপনা যুগিয়েছে। জ্ঞানের আলোয় নিজেদের আলোকিত করার এই প্রচেষ্টা পুরো উপজেলায় বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ উৎসবে সমন্বয় সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ‘শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে সাহিত্য সংগঠন ‘উত্তরণ।