Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে মাদক, জুয়া ও কিংশোর গ্যাং নির্মূলে বিশেষ অভিযানের ঘোষণা নতুন পুলিশ কমিশনারের

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০৩ আগস্ট, ২০২৬

সিলেটে মাদক, অনলাইন জুয়া নির্মূল ও কিশোর গ্যাং বন্ধে বিশেষ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) নবাগত কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

তিনি বলেছেন, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক ও অনলাইন জুয়া নির্মূলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সিলেট মহানগর পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য কর্মক্ষম ও আধুনিক যুবসমাজ গড়ে তোলা। কিন্তু মাদক ও অনলাইন জুয়া সমাজকে বিপদগ্রস্ত করছে। তাই এসএমপির নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম চলমান থাকলেও এ দুটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মাদক নির্মূল, মাদক প্রতিরোধ এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আমি বিশেষভাবে জোর দিতে চাই। একজন রিকশাচালকও সারাদিন পরিশ্রম করে আয় করা টাকা মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে ফেলছে। এই দুই বিষয় থেকে সমাজকে বের করে আনতে আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা বিশেষভাবে কাজ করব।


সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, যুবসমাজ সঠিক পথে থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে। আর তারা যদি মাদক ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কারণে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে এসএমপি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

সভায় সাংবাদিকরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, চুরি, ছিনতাই ও রাতের বেলায় অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন।

জবাবে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, কিশোর গ্যাং, চুরি, ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে এসএমপি কঠোর অবস্থানে থাকবে।

তিনি বলেন, যেসব এলাকায় অপরাধের প্রবণতা বেশি, সেখানে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তল্লাশি বাড়ানো হবে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, কিশোর গ্যাং, চুরি ও ছিনতাই রোধে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং পুলিশি টহল জোরদারের মাধ্যমে মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


নাশকতার আশঙ্কায় গোয়েন্দা নজরদারি: দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে বিস্ফোরক উদ্ধার ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে সিলেট মহানগরও সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

মতবিনিময় সভায় পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নিয়মিত পাচ্ছি। সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে আমরা অভ্যন্তরীণভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। আপনারাদের কাছে যদি সম্ভাব্য নাশকতা বা সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য থাকে, তাহলে দ্রুত আমাদের জানাবেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাৎক্ষণিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড ও যানজট নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা : হানগরের অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড, যানজট ও ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নবনিযুক্ত এই কমিশনার।

তিনি বলেন, নাগরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ইতোমধ্যে চলমান ইতিবাচক উদ্যোগগুলো অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে আরও উন্নত করা হবে।

সভায় সাংবাদিকরা নগরজুড়ে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং এসবের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজটের বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বলেন, নগরীর বিভিন্ন সড়কে গড়ে ওঠা অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ব্যাহত করছে এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে।

জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, পূর্ববর্তী পুলিশ কমিশনারের সময়ে ফুটপাত দখলমুক্তকরণ ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বজায় রাখা হবে। একই সঙ্গে নাগরিক স্বার্থে ইতিবাচক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের যে সিদ্ধান্ত আগে ছিল, সেটি বহাল থাকবে। শুধু নতুন কমিশনার এসেছেন বলে জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না। পুলিশের চলমান অভিযান ও কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।”

সারোয়ার মুর্শেদ শামীম আরও বলেন, সিলেট মহানগরে যানজট একটি বড় সমস্যা। এ সমস্যা নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, প্রয়োজনীয় স্থানে পুলিশি কার্যক্রম বাড়ানো এবং সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, জনবল সংকট থাকলেও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যেখানে যেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমাদের সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ইতিবাচক কার্যক্রম থেমে থাকবে না; বরং আরও জোরদার করা হবে।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.