Sylhet Today 24 PRINT

গ্যাসের আধার সিলেটেও এখন গ্যাস সঙ্কট

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৪ আগস্ট, ২০২৬

গ্যাসের আধার হিসেবে পরিচিত সিলেট। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্যাসক্ষেত্র সিলেটে। দেশে গ্যাসের চাহিদার বড় অংশই সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে পাওয়া যায়। অথচ সিলেটেই এখন দেখা দিয়েছে গ্যাসের সঙ্কট।

সঙ্কটের কারণে মঙ্গলবার সিলেটের অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষত দুপুরের দিকে নগরের অনেক আবাসিক গ্রাহক জানিয়েছেন, তাদের বাসায় গ্যাস নেই। চুলা জ্বলছে না।

এসব গ্রাহকরা জানান, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারের ব্যালেন্স ফুরিয়ে গেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন পুরো এলাকায় কারো বাসায়ই গ্যাস নেই।

এদিকে, গ্যাস সঙ্কটের কথা জানিয়ে সিলেটের গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সিলেটে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, সিলেটসহ সারাদেশে গ্যাসের চাপ কম।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা এই দুঃখ প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে সারা দেশের ন্যায় সিলেট বিভাগেও গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে স্বল্প চাপ বিরাজমান।

এ অবস্থায় সিলেট বিভাগের সব শ্রেণির গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তারা গ্রাহকদের সহযোগিতা চেয়েছে।

এদিকে, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সঙ্কট নিয়ে মঙ্গলবার সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। খুব বড় দুর্ঘটনা হয়নি, কিন্তু কাজ করতে পারছে না। এই কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প খাত ও বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে। আর এ কারণেই বিদ্যুৎ সঙ্কট দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে প্রচুর লোডশেডিং হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সঙ্কটে মানুষ ভুগছেন।

গ্যাস সঙ্কটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমদানি করা গ্যাস এলএনজি টার্মিনালে আনা হয়। সেখানে রিগ্যাসিফিকেশন করতে হয়। এ রকম দুটি প্ল্যাটফর্ম আছে আমাদের। এর মধ্যে একটি আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালনা করে। সেটায় একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।

তিনি বলেন, এর প্রভাব সব জায়গায় পড়েছে। আমার নিজের বাসাতেও গ্যাসের চাপ থাকে না। আমি নিজে ভুক্তভোগী। আমাদের সঙ্কট আগেই ছিল, এখন একটি টার্মিনাল থেকে যখন গ্যাস আসা বন্ধ হয়ে গেল, এটা মারাত্মক সঙ্কট তৈরি করল। শিল্পে, বাসাবাড়িতে, সিএনজি পাম্পগুলোতে। সিএনজি অটোরিকশা-গাড়ির লম্বা লাইন হচ্ছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার লোডশেডিং করতে চায় না। যেহেতু গ্যাসের বিদ্যুৎকেন্দ্র কমে গেছে, সরকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল তরল জ্বালানি ডিজেলভিত্তিক জ্বালানি দিয়েও বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এগুলো পাবলিক মানি। সরকার পারতপক্ষে এগুলো কম ব্যবহারের চেষ্টা করে। কারণ উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। এই সঙ্কটের কারণে সেটাও করছে। তারপরও লোডশেডিং হচ্ছে।

যখন গ্যাস কমে যায়, আমরা বাসা-বাড়িতে অনেকে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করতে শুরু করি। একইসঙ্গে যেসব শিল্পে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল, মানে তারা সরকারের কাছ থেকে গ্যাস নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতো। যেহেতু গ্যাসের সঙ্কট হলো, তারা এখন গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে শুরু করেছে। ফলে গ্যাস সঙ্কটের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও অনেক বেড়ে গেছে। যেটা তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়েও পুরোপুরি সামলানো যাচ্ছে না।

শিগগির সঙ্কট কেটে যাওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, গ্যাসের সমস্যার সমাধান হলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা কমে যাবে এবং গ্যাসের সঙ্কটও থাকবে না।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যে সঙ্কট, কখনো মনে হচ্ছে এটা শেষ হলো, কখনো মনে হচ্ছে এটা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। যেকোনো কিছুই হতে পারে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.