নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ আগস্ট, ২০২৬
ছোটবেলায় পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন বড় ভাই। আর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের।
শুক্রবার সকালে ওসমানীনগরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় যে ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন তাদের মধ্যে সপ্তম রায় প্রীতমও (২২) রয়েছেন। যা বড় ভাই মারা গিয়েছিলেন পানিতে ডুবে।
নগরের সোবহানীঘাটের বাসিন্দা প্রীতম ছিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা ও বোনকে নিয়ে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকেই হারাতে হলো সড়ক দুর্ঘটনায়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে। সিলেট থেকে ঢাকার পথে থাকা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি নাইট স্লিপার কোচের এই মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে যায় নারী-শিশুসহ ৯টি প্রাণ, আহত হন অন্তত ১৪ জন।
এদের প্রীতম সকালে সিলেট থেকে রাজধানীর উদ্দেশে ইউনিক বাসের যাত্রী হয়েছিলেন। ঢাকা আর যাওয়া হলো না তার। এই দুর্ঘটনায় নিহতের সবাই ইউনিক বাসের যাত্রী।
প্রীতমের মাসতুতো বোন জামাই কাজল ভৌমিক বলেন, প্রীতমই ছিলেন তাদের পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। তার আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলত বৃদ্ধ মা ও বোনের পুরো সংসার। অনেক কষ্ট আর অভাবের মধ্য দিয়েই দিন পার করছিল পরিবারটি। ছোটবেলায় পানিতে ডুবে মারা যান প্রীতমের একমাত্র ভাই। এরপর থেকে সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন প্রীতম। আজ সেই প্রীতমও চলে গেল।
প্রীতমদের প্রতিবেশি নরেন ভট্টাচার্য বলেন, প্রীতমকে কোলে-কাঁখে বড় করেছি। আমাদের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া ছিল তারা। আজ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের দুর্ঘটনায় সে আর নেই। এর আগে ওর এক ভাই পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিল। এই শোক সইবে কিভাবে ওর মা-বোন। খবরটা শুনার পর থেকেই অস্বস্তি লাগছে।