নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ আগস্ট, ২০২৬
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত প্রিতমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে নগরীর যতরপুর মৌবন এলাকায় নিহত প্রিতমের বাসায় যান জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ নগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
এসময় জামায়াত নেতৃবৃন্দ নিহত প্রিতমের বাবার কাছে নগদ আর্থিক অনুদান তুলে দেন এবং প্রিতমের বোনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রিতমই ছিলেন তাদের পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। তার আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলত বৃদ্ধ মা ও বোনের পুরো সংসার। অনেক কষ্ট আর অভাবের মধ্য দিয়েই দিন পার করছিল পরিবারটি। ছোটবেলায় পানিতে ডুবে মারা যান প্রীতমের একমাত্র ভাই। এরপর থেকে সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন প্রীতম। দুর্ঘটনায় সেই প্রীতমও চলে গেল। পরিবারের মাঝে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার।
সিলেট মহানগর জামায়াত আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম তাদের বাসায় গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রিতমের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে কিশোরী মোহন স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী প্রিতমের একমাত্র বোনের লেখাপড়ার সকল খরচ বহন করা হবে। জামায়াত দল মত নির্বিশেষে আর্ত মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। জামায়াত প্রিতমের পরিবারের পাশে থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর জামায়াত আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কোতোয়ালী পূর্ব থানা আমীর রফিকুল ইসলাম মজুমদার, ১৫নং ওয়ার্ড সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, সেক্রেটারী আব্দুর রশিদ। এছাড়া এসময় ১৫ নং ওয়ার্ড জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল প্রায় ৭টায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচ ও ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে সপ্তম রায় প্রিতমও (২২) রয়েছেন। নগরের সোবহানীঘাটের বাসিন্দা প্রীতম ছিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা ও বোনকে নিয়ে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। প্রীতম সকালে সিলেট থেকে রাজধানীর উদ্দেশে ইউনিক বাসের যাত্রী হয়েছিলেন।