নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ আগস্ট, ২০২৬
হামের শিশুর মৃত্যুর পর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের বারান্দায় মায়ের আহাজারি। শনিবারের ছবি
সিলেট হামে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে হবিগঞ্জের এক শিশু, ১৮ বছর বসয়ী এক তরুণী এবং সিলেটের এক শিশু রয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১২৫ জনে।
সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)-এর কার্যালয় থেকে শনিবার (৯ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হাম রোগে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এলাকার সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশু, যার মৃত্যু হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হবিগঞ্জের বানিয়াচং এলাকার ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয় হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে। এ ছাড়া সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এলাকার আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয় শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৮২৭ জন নিশ্চিত হাম রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে ২৭১ জন, হবিগঞ্জে ১০৩ জন (এর মধ্যে দুজন রুবেলা আক্রান্ত), মৌলভীবাজারে ১০২ জন এবং সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৩৫১ জন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯১ জন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ২৫ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৫ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি রয়েছে মোট ২৭১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে, ১২১ জন। এ ছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬২ জন, রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৬ জন, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথাক্রমে ৫ ও ২ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪১ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২১ জন ভর্তি রয়েছেন।
বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলাভিত্তিক মোট মৃত্যুর (সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে) তথ্যে দেখা যায়, সিলেটে ৪৪ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬ জনের।