নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ আগস্ট, ২০২৬
ফাইল ছবি
সিলেটে হাম ও ডেঙ্গুর উচ্চ প্রকোপের মধ্যেই হঠাৎ করে হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। দীর্ঘ ১৪ মাস পর নতুন করে একজনের শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান।
তিনি জানান, কোভিড আক্রান্ত ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। তিনি সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে এনজিওগ্রাম করার সময় অ্যান্টিজেন টেস্টে (আরএটি) তাঁর শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। পরীক্ষার পর তাকে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের একটি কেবিনে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৫ জুন সিলেটে দুই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল।
সিলেটে গত কয়েকদিন ধরে হাম শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। একইসঙ্গে হামে শিশু মৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোববারও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সবশেষ ২৪ ঘন্টায় সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে ৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১২৫ জনে। এছাড়া সম্প্রতি ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যাও বেড়েছে। এর মধ্যে করোনা সংক্রমনের খবর আরও উদ্বেগের কারণ।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৮২৭ জন নিশ্চিত হাম রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে ২৭১ জন, হবিগঞ্জে ১০৩ জন (এর মধ্যে দুজন রুবেলা আক্রান্ত), মৌলভীবাজারে ১০২ জন এবং সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৩৫১ জন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে।
হামের চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০০ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১২১ জন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগীর এই চাপের মধ্যে নতুন করে কোভিড রোগী ভর্তি করায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একই হাসপাতালে একাধিক সংক্রামক ব্যাধির রোগীদের একসঙ্গে রাখা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে,শুক্রবার পর্যন্ত বছরে ১২১ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত এবং একমাত্র নারীর মৃত্যু তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, জনাকীর্ণ ভিড় এড়িয়ে চলা, বাইরে বা চলাচলের সময় মাস্ক পরিধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সচেতনতা, বাসাবাড়ির পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।